জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাবির গবেষণা

জলাবদ্ধতা আর ঢাকা শহর যেন সমার্থক। হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে বন্ধ হয়ে যায় শহরের পথঘাট। শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন শহরে তীব্রতর হচ্ছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নানা উদ্যোগ নিলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না জনগণ।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এক গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষকরা ‘ওয়াটার লগিং রিস্টোরেশান’ শীর্ষক এই গবেষণায় তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে মাটির উপরিভাগে থাকা পানি অল্প সময়ে নিষ্কাশন করতে সক্ষম হন। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল প্রাঙ্গণে ১ লাখ লিটার পানি দিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে গবেষক দল। এর পর নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ৯০ মিনিটে এই পানি ভূগর্ভে চলে যায়। গবেষকদের দাবি এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ঢাকাসহ সকল শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ ফলাফল বয়ে আনবে।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে গড়ে বার্ষিক ১৮৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের খোলা জায়গার পরিমাণ কমছে। অন্যদিকে বাড়ছে কংক্রিটের স্থাপনা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের এক গবেষণায় দেখা যায়, গত ২০ বছরে ঢাকার জলাভূমি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ অন্যদিকে কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এছাড়াও  ঢাকা শহরের মাটির উপরিভাগ মধুপুর ক্লে দ্বারা গঠিত যার কারণে মাটির ওপরে জমে থাকা পানি নিচে প্রবেশ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয় অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমে থাকা পানির প্রবাহ কম থাকে। যার ফলে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা দিনদিন প্রকট আকার ধারণ করছে। জলাবদ্ধতা শুধু মানুষের কর্মঘণ্টাই নষ্ট করে না আর্থিকভাবেও দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শহরে গত ১০ বছরে ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্ল্যানিং কমিশনের এক জরিপে উঠে এসেছে।

এই গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মধুপুর ক্লে থেকে ডুপিলা জলাধারে পানি পৌঁছে দিলে পানি অল্প সময়ের মধ্যেই ভূগর্ভে চলে যায়। এই গবেষণায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমাদের অল্প বাজেটের মধ্যে আমরা এই গবেষণা করেছি। 

এটাকে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের প্রয়োজন হবে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই গবেষণা করা। তবেই আমাদের শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই গবেষণা কাজে লাগাতে পারব।

এই অধ্যাপক আরও বলেন, বর্তমানে আমরা স্যাটেলাইটের সাহায্যে শহরের জলাবদ্ধ অঞ্চল চিহ্নিত করার কাজ করছি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ পানি জমে তা আমাদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। তবেই আমরা এই ফর্মুলা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব। এছাড়াও আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমাদের ফর্মুলার মাধ্যমে যেন দূষিত পানি ভূগর্ভে না যায়। তা নিয়েও আমরা এখন কাজ করছি। আমরা প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছি। এই গবেষণা নিয়ে আমাদের বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।