জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের পাওনা ৬০ মিলিয়ন ডলার দ্রুত পরিশোধ করছে জাতিসংঘ সদর দপ্তর। পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের অনুরোধে জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল লিসা বাটেনহাইম তাত্ক্ষণিকভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের পরিশোধপত্র হস্তান্তর করেন। অবশিষ্ট ৩০ মিলিয়ন ডলার অচিরেই পরিশোধ করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
একইদিন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিলিটারি অ্যাডভাইজর লেফটেন্যান্ট জেনারেল কার্লোস হামবার্তো লয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় জেনারেল লয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স জেনারেশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩১ বছরে এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশকে নির্বাচন করা হলো।
এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে একজন ফোর্স কমান্ডার নিয়োগের প্রস্তাব দিলে জেনারেল লয়টি তা স্বাগত জানান এবং দ্রুততম সময়ে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। সেনাপ্রধান বাংলাদেশ থেকে আরো ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, স্পেশাল ফোর্স এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ব্যাটালিয়ন নিয়োগেরও প্রস্তাব দেন। এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পৌঁছালে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাঁকে স্বাগত জানান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন পিয়ের ল্যাক্রিক্স-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসকল বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ এবং সেনাবাহিনী প্রধানের সহকারী একান্ত সচিব কর্নেল কায়সার রশিদ।