লেবাননে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইসরায়েলের ৩ সেনা

লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষে তিন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে বুধবার (০৯ অক্টোবর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানায়, গত দুই দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষে তিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন গতকাল এবং একজন আজ আহত হন। 

আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ হয়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে একটি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। 

এটি ঘটে যখন ইসরায়েলি সেনারা ব্লিদা শহরের মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান সম্প্রসারণ করছে এবং দক্ষিণে চতুর্থ ডিভিশন মোতায়েন করেছে। 

হিজবুল্লাহর একজন ডেপুটি লিডার জানান, ইসরায়েল গত সপ্তাহে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে, তবে তারা সেই অভিযান চলাকালীন বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। 

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে বেশ কিছু বিপজ্জনক ঘটনা ঘটেছে। 

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল লেবাননে স্থল হামলা শুরু করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। 

জি-৭ জোটের পক্ষ থেকেও সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। 

গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে মধ্যপ্রাচ্য সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৈরুতের ওপর ইসরায়েলের বোমা হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। বিস্ফোরণে অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়ে এবং শহরজুড়ে ধোঁয়া ও ধূলা ছড়িয়ে পড়ে। 

এ হামলার পর, এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০০ এর বেশি মানুষ নিহত হন এবং এর আগের সপ্তাহে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত ও তিন হাজারের বেশি আহত হন।