দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) অসুস্থতাজনিত কারণে ক্যাম্পাস থেকে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি যাওয়ার আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৮ ব্যাচের সুজন রানা নামের এক শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া যাবে না বললে প্রায় ত্রিশ মিনিট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ডের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন সুজনসহ কয়েকজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন রানা বলেন, আমি যতবারই এ্যাম্বুলেন্স নিয়েছি আমি আবেদন করেই নিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন থেকেই আমার পায়ে রিং ছিল কিন্তু গত পরশু রংপুরে আমার পায়ের অপারেশন করে রিং বের করে ফেলা হয়। এই অপারেশনের জন্য আমার হল প্রভোস্ট এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক স্যারের অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আমাকে রংপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আমার পায়ে রিং না থাকায় বর্তমানে আমাকে নড়াচড়া করতে ডাক্তার নিষেধ করেছেন, যার ফলে আমি বাসায় যাওয়ার জন্য আবারও আমার হল প্রভোস্ট এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক স্যারদের স্বাক্ষরসহ পরিবহন শাখায় আমার আবেদনটি জমা দেই। তখন পরিবহন শাখার পরিচালক স্যার ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক স্যারকে কল দিলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তখন আমি বাধ্য হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করে দেই। আমাকে যদি আগেই বিষয়টি অবগত করতেন তাহলে আমি নিজস্ব ব্যবস্থায় চলে যেতে পারতাম কিন্তু তারা আমাকে অবগত না করে আজকে যখন আমি বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হই তখন বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। আমি চাই ভবিষ্যতে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে যেন এমন ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এমদাদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনো শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষক অসুস্থ হলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাড়িতে পোঁছে দিতে হবে এমন আইন নেই । মানবিকতার দিক বিবেচনা করে আমরা তাকে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন শিক্ষকের সুপারিশের বিষয়ে কথা বললে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন না থাকায় সুপারিশ করতে অসম্মতি জানান। তখন আমি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করলেও সেটা থেকে সরে আসি।
পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা মানবিকতার খাতিরে আমাদের পরিবহন ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকি আইনে না থাকলেও সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনকে ওই গাড়িতে থাকতে হয়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল যে কোনো শিক্ষকের নাম বা সুপারিশ নিয়ে থাকি যদিও কেউ গাড়িতে থাকেন না । যিনি সুপারিশ করেন আমরা গাড়ি তার দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে থাকি। এমদাদুল স্যারকে সুপারিশের বিষয়ে কল দিলে তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান । তখন আমরা গাড়ি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। তখন আবেদনকারীসহ কয়েকজন ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড রোডে সুজনসহ কয়েকজনের অবস্থান নেয়ায় প্রায় ৩০ মিনিট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ডে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।