পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনা

‘অহন আমার অসুস্থ মাইয়ার জন্য ওষুধ কিনা দিব কে?’

‘অহন আমগরে দেখবো কে? কেমনে চলবো আমগরে সংসার? আমার অসুস্থ মাইয়ার জন্য ওষুধ কিনা দিব কে?’ এভাবেই আহাজারি করছিলেন পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুল মোতালেবের মা ময়না বেগম। 

বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে পিরোজপুরের নাজিরপুর সড়কের নূরানি গেট এলাকায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। তারা হলেন, রঘুনাথপুর গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোতালেব (৩৬), মোতালেবের স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (৯) ও ছেলে সোয়াইব (৪)। 

নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: ইত্তেফাক

বৃহস্পতিবার দুপুরে রঘুনাথপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। নিহত মোতালেবের বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা ভিড় করেছেন। এ সময় আহাজারি করছিলেন নিহত মোতালেবের বৃদ্ধা মা ময়না বেগম, বড় বোন লাভলী ও অন্য আত্মীয়-স্বজনেরা। 

নিহত মোতালেবের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘জানি না আল্লাহ আমারে এ কেমন শাস্তি দিল। আমার পুরা সংসারটা ভাইঙ্গা গেল।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে লাভলী বেগম বড়, আর ছেলে মোতালেব ছিলেন ছোট। লাভলী শারীরিকভাবে অসুস্থ। বাবার বাড়িতেই থাকেন। বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে প্রায় ১০ বছর ধরে মোতালেব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। বাবা নাজিম উদ্দিনের তেমন জমিজমা নেই। মোতালেবের আর্থিক সহযোগিতায় চলত এই পরিবারটি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।  

সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. ইন্তাজ আলী বলেন, নাজিম উদ্দিনের সংসারের সব খরচই বহন করতেন মোতালেব। তার (মোতালেব) অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। এই পরিবারটিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে আবেদন জানান তিনি।