বাপ-দাদার বসতভিটা রক্ষা করতে গিয়ে ১৪ মামলার আসামি হয়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ইউনূস আলীর পরিবার। আওয়ামী লীগের দলীয় নেত্রী উম্মে কুলসুম চায়না মামলাগুলো করে একাধিকবার জেল খাটিয়েছেন ইউনূস ও তার পরিবারের সদস্যদের।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ব্যাপারীপাড়ায় বাপ-দাদার বসতভিটায় বসবাস করেন অসহায় ইউনূস পরিবারের ২৪ সদস্য। প্রায় ১৫০ বছর যাবৎ তারা সেখানে বসবাস করে আসছেন। সেই বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রথমে আদালতে ইউনূস ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম আজেনসহ পরিবারের কয়েকজনের নামে মামলা করেন উম্মে কুলসুম চায়না। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।
এরপরও ক্ষান্ত হননি আওয়ামী লীগের এ নেত্রী। একটার পর একটা মামলা দিয়েই চলেছেন। এখন পর্যন্ত ইউনূস ও তার ভাই আজেনসহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে তার করা মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। গায়েবি এসব মামলায় একাধিকবার জেলও খেটেছেন ইউনূস পরিবারের একাধিক সদস্য। এ নিয়ে কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ দরবার হয়েছে। কিন্তু ইউপি মেম্বার উম্মেকুলসুম চায়নাকে কেউ থামাতে পারেনি। ফলে দিনমজুর ইউনূসের পরিবার হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। মামলার খরচ যোগাতে গিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন তারা।
এব্যাপারে ইউনূস আলী জানান, ১৪টি মিথ্যা মামলা করে আমাদের হয়রানি করছে উম্মেকুলসুম চায়না। মামলার খরচ যোগাড় ও বিচারের আশায় বিভিন্ন জনের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছিনা। পরিবারের লোকজন নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
মামলাগুলোর বাদী উম্মেকুলসুম চায়না জানান, আমি আইনের মাধ্যমে বিচার প্রার্থী হয়েছি। আদালত যে রায় দেবেন তা মানতে বাধ্য। আমি কাউকে হয়রানির জন্য মামলা করি নাই। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্যই মামলা করেছি।
এব্যাপারে স্থানীয় নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান ফর্সা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকার সালিশ দরবার হয়েছে। কিন্তু সমাধান করা সম্ভব হয়নি। উম্মেকুলসুম চায়না নমনীয় হলেই সমাধান সহজ হবে। নইলে সালিশ দরবার করে কোনো সমাধান আসবেনা।