মেঘনায় অভিযান চালাতে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার ইউএনও

বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে অভিযানে শুক্রবার বিকেলে হামলা চালিয়েছে জেলেরা। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হিজলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, কোস্টগার্ড, আনসারসহ উপজেলার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদীতে জাল ফেলে অবস্থান করা একটি নৌকাসহ জেলেদের আটক করা হয়। তখন জেলেদের ডাকে আরও তিনটি নৌকায় করে লোক এসে তাদের ওপর হামলা করে। জেলেরা তাদের নৌযানে ইট, লাঠির মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে নিক্ষেপ শুরু করে। এতে তিনিসহ একজন আনসার সদস্য, চারজন কর্মচারী আহত হন।

এসময় তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেব সদস্যরা ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। তখন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১১ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। বাকি চারজন অপ্রাপ্ত বয়সী হওয়ায় তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। এদিকে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে গত রবিবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা মানতে ইলিশ মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় অভিযানও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব অভিযানের তোয়াক্কা করছে না কিছু মৌসুমি জেলে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই অবাধে করছে ইলিশ শিকার। প্রশাসনও বলছে একই কথা। এরা কেউ প্রকৃত জেলে নয়। অপরদিকে ইলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বরিশালের বাজার গুলোতে বেড়েছে অন্যান্য মাছের দাম।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ দিনের অভিযানে ২৫৯টি মামলায় ৯৪ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৭১১টি অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া ২৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ জানান, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। যারা নির্দেশনা অমান্য করে মাছ শিকার করে তাদের জাল জব্দ করে ধ্বংস করছি। পাশাপাশি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরে এনে জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে আত্মসচেতনতা। আমাদের সবাইকে মা ইলিশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

এদিকে ইলিশের নিষেধাজ্ঞা শুরুও পর থেকেই বরিশালে মাছের বাজার গুলোতে বেড়েছে সকল প্রকার মাছের দাম। শনিবার সকালে নগরীর বড় মাছ বাজার পোর্টরোড বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ না থাকায় ব্যবসায়ীরা সাগর ও নদীর বিভিন্ন প্রকার মাছ বিক্রি করছেন। ইলিশ না থাকায় অন্যান্য মাছের সরবারহ বেড়েছে অন্যদিনের তুলনায়। এসময় বাজারে ঢেলা, পোমা, চিংড়ি, সাগরের চিতল, সুরমা, কোড়াল, নদীর পাঙ্গাস দেখা গেছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বাজারে ইলিশ না থাকায় সব ধরনের মাছ কেজিতে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ইলিশ না থাকায় অন্যান্য মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে তারা পাইকারের কাছ থেকে বেশি দামে কিনছেন আর বিক্রিও করছেন একটু বেশি দামে।