নেপালে অনুষ্ঠানরত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছে। এ ড্রয়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ঝুলে থাকল। আগামী বুধবার ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের। ড্র হলেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠবে। হেরে গেলেও সুযোগ থাকবে, তবে কম গোলের ব্যবধানে হারতে হবে। কারণ ভারত ৫-২ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। সেই হিসাবটা মেলাতে হবে।
ম্যাচের ৪১ মিনিটে বাংলাদেশ গোল হজম করেছে ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের ভুলে। পাকিস্তানি ফুটবলার রামিন ফরিদ মাঝমাঠ থেকে লং বল ফেলেন বাংলাদেশের বক্সে। ডিফেন্ডার শিউলি বল নামিয়ে গোলরক্ষক রূপনা চাকমার দিকে ঠেলে দেন। কিন্তু রূপনা চকমা এগিয়ে আসার আগেই পেছন থেকে দৌড়ে এসে বল ঠেলে দিয়ে গোলে পরিণত করেন পাকিস্তানি জাহমিনা সামিন মালিক, ১-০।
গোল শোধ করতে মরিয়া বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেছিল। কিন্তু গোল হচ্ছিল না। পোস্টের আশপাশ দিয়ে বল বাইরে যাচ্ছিল। সাফে অভিষেক হওয়া অফিদা খন্দকার, মনিকা, মারিয়া, কোয়াতি কিসকু, সিনিয়র সামসুন নাহার, ঋতুপর্না চাকমা, জুনিয়র সামসুন নাহার, তহুরা খাতুনরা ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পাচ্ছিলেন না। বুঝাই যাচ্ছিল পাকিস্তানি মেয়েরা প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৫-২ গোলে হারলেও তারা একটা ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে নেমেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরা সাফে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। সেই অভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
দশরথে রঙ্গশালার মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য ৪৫ মিনিটের প্রস্তুতি ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে খেলা বদলে গেলেও অধিনায়ক সাবিনা খাতুন কোনো ভাবেই ভালো খেলতে পারেননি। তাকে তো খুঁজেই পাওয়া যায়নি। সাবিনার পরিবর্তে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা কৃষ্ণা রানী সরকার মাঠে ঢুকলেই পুরো আক্রমণভাগের ছবি পালটে যায়। আক্রমণের ধার বেড়ে যায়। তাতেই নাকাল হতে থাকে পাকিস্তান। কিন্তু ঐ যে, ফিনিশিং। গোল পেতে ৯১ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ঋতুপর্না চাকমার ক্রসের বলে জুনিয়র সামসুন নাহার গোল করে ম্যাচ ড্রয়ে নামিয়ে আনেন, ১-১। পাকিস্তানের নিশ্চিত জয় ঠেকিয়ে দিয়েছেন।
সাফের গত আসরে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এবারের পাকিস্তান অনেক শক্তিশালী। ইউরোপে খেলা ফুটবলার এনেছিল। নাদিয়া খান ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের দল ডানকাস্টার রোভার্স বেলস দলে খেলেন।