বাফুফে নির্বাচন 

‘ফুটবলের স্বার্থে এই মানুষটিকে দরকার’ 

'নাহ, আপনি চলে যেতে পারবেন না। ফুটবল নির্বাচন করতে এসেছেন, নির্বাচন করুন। দেশের ফুটবল উন্নয়নে আপনার মতো কিছু সংগঠক না থাকলে আরও কলুষিত হয়ে যাবে ফুটবল। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠকদের সেই সম্মান এখন নেই। সংগঠক নিজেরা গায়ে বদনামের কালি মেখেছেন। পরিচ্ছন্ন ক্রীড়াঙ্গন ফিরিয়ে আনতে নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর মতো সংগঠক আরও বেশি সংখ্যায় দরকার। আপনি থাকুন, নির্বাচন করুন'-এসব কথা বলা হয়েছে বাফুফের নির্বাচনে সহ-সভাপতি প্রার্থী মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীকে। তিনি বাফুফেতে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফুটবল ফেডারেশনে তিনি নতুন মুখ। 

খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সংগঠক, কোচ কারো সঙ্গে পূর্বপরিচয়ও ছিল না। গত তিন সপ্তাহে নির্বাচনী মিলনমেলায় অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন করতে এসে কিছু কিছু বিষয় দেখে তার ভালো লাগেনি, কপাল কুচকে গিয়েছিল। ভেতরে ভেতরে নিজেকে সংকুচিত করে ফেললেন 'দরকার কী এখানে থেকে'। 

শুক্রবার রাতেই নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নাসের শাহরিয়ার। শনিবার সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন প্রত্যাহার আবেদনপত্রে স্বাক্ষরও করে ফেললেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় অন্যরা ছুটে আসেন। ফুটবলের স্বার্থে এই মানুষটিকে প্রয়োজন মনে করে নাসের শাহরিয়ারকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে একাধিক মহল থেকে অনুরোধ আসে। এমনও বলা হয়-ফুটবল খেলতে নামলে কাদা লাগবে, জার্সি ময়লা হবে, ছিঁড়ে যাবে, হাঁটু ছিলে রক্ত বেরিয়ে যেতে পারে, লালকার্ড হওয়াটাই স্বাভাবিক। যা কিছু হয় ক্ষণিকের। খেলা শেষে সবাই স্বাভাবিক কাজে চলে যান। নির্বাচনের আগে এসব হয়। 

যশোরের শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ। কথা বলেন খুব নিচু স্বরে। ঠান্ডা মেজাজের মানুষটি অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি। স্বাক্ষরযুক্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনপত্রটি অবহেলিত স্থানে সরিয়ে রাখেন। ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে নির্বাচিত হয়ে এলে সুন্দর পরিবেশে ফুটবলের জন্য কাজ করতে পারবেন বলে অনুরোধকারীরা মতামত দিয়েছেন তাকে। সবাই মিলে কাজে-কর্মে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক কাঠামো গড়ে তুলবেন। 

নাসের শাহরিয়ার নিজের অর্থে ফুটবল একাডেমি গড়েছেন, যশোরে। ফুটবল একাডেমি ভবন গড়েছেন। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া, পড়ালেখা করা-সবই তিনি করেছেন তার নিজের অর্থে, নিজস্ব পরিকল্পনায়। তিনি দেশের বিশাল বড় সংগঠক হওয়ার মনোভাব নিয়ে কিছু করেননি। দেশের ফুটবলে খেলোয়াড় তৈরির কাজটা করে গেছেন নীরবে। এমন মানুষ কি আর আছে? 

কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে যশোর এবং ঝিনাইদহ জেলার কিছু লোক ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানের ফুটবল সংগঠকরাও তাকে চিনতেন না। সেই মানুষটি ফুটবলের মূল স্রোত, বাফুফেতে কাজ করতে এসে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু কিছু নোংরামি দেখে বিস্মিত, হতভম্ব-'এই পরিবেশ আমার জন্য নয়। এখানে থাকাটা আমার ঠিক হবে না। আমি আমার একাডেমি নিয়ে আছি, সেটা নিয়েই থাকতে চাই। দূর থেকেও ফুটবলের জন্য কাজ করতে পারব।' ভদ্রলোক সরে যেতে চাইলেন। অন্যরা বুঝলেন উনার মতো মানুষরা হারিয়ে গেলে ফুটবলের ক্ষতি হবে। তাদের রাখতে হবে। যারা কিছু নিতে আসে না, দিতে আসে। নাসের শাহরিয়ার জাহেদী সেরকম একজন। আপনি এসেছেন। আপনি থাকুন।'