চা g ষা g বা g দ
দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি বিভাগ
আলুবোখারার চারা বিতরণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। মে মাস থেকে জুলাই মাসের
মধ্যে আলুবোখারার ফলন আসে
g আবুল কাসেম ভুঁইয়া
মুখরোচক এবং উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ বিদেশি ফল আলুবোখারার বেশ কদর রয়েছে আমাদের দেশে। বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরিতে আলু বোখারা ব্যবহূত হয়। ফিরনি, জর্দা, ফালুদা, শরবত, জেলি, আচার, বিরানি তৈরিতে আলু বোখারা ব্যবহূত হয়ে থাকে। দুই ধরনের আলুবোখারা পাওয়া যায়। একটি মিষ্টিজাতীয় অপরটি টকজাতীয়। বিদেশি ফল আলুবোখারা আমাদের দেশে আমদানি করা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশের কিছু শৌখিন ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে আলুবোখারার পরীক্ষামূলক চাষ করে সফল হয়েছেন। নাটোরের কৃষিবিদ এস এম কামরুজ্জামান তার নিজস্ব বাগান মডার্ন জার্ম প্লাজম সেন্টারে আলুবোখারার চাষ করেছেন। তিনি সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আলুবোখারার চারা সংগ্রহ করে তার বাগানে রোপণ করেন। চারা রোপণের দুই বছর পর থেকে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে তার গাছের বয়স পাঁচ বছর হয়েছে। আলুবোখারা গাছে বর্তমানে প্রচুর আলুবোখারা ধরেছে। তিনি জানান, আলুবোখারা চাষের জন্য এ দেশের মাটি এবং জলবায়ু খুবই উপযোগী। আলুবোখারা গাছ এমন জায়গায় লাগাতে হবে যেখানে পানি না জমে। গাছের গোড়ায় পানি জমলে গাছ মরে যাবে। আলুবোখারা গাছের চারা কলম থেকে নিতে হবে। বীজ থেকে চারা তৈরি করা বেশ কঠিন। আলুবোখারা চাষের জন্য সমতল ভূমির চেয়ে পাহাড়ি ঢালু এলাকা খুবই উত্তম।
আমাদের দেশের পার্বত্য এলাকাতে আলুবোখারার চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আলুবোখারা চাষ তেমন জটিল নয়। চাষে তেমন কোনো বাড়তি শ্রম দিতে হয় না। অন্য গাছের মতো মাটিতে গর্ত করে গোবর আর সার প্রয়োগ করে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের দুই বছর পর থেকে গাছে ফলন আসে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৪০ কেজি আলুবোখারার ফলন হয়। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এদেশে আলুবোখারার নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। দেশে আলুবোখারা চাষের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি বিভাগ আলুবোখারার চারা বিতরণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। মে মাস থেকে জুলাই মাসের মধ্যে আলুবোখারার ফলন আসে। প্রক্রিয়াজাত করার অত্যাধুনিক পদ্ধতি প্রচলিত না থাকলেও ভিন্ন পদ্ধতিতে আলুবোখারা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পাকা আলুবোখারা গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর গরম পানিতে সিদ্ধ করে শুকিয়ে নিয়ে সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। আলুবোখারায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং মিনারেল রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারে আলুবোখারার চারা পাওয়া যাচ্ছে।