চট্টগ্রামে রেলের দরপত্র ছিনতাই, দুই পক্ষের হাতাহাতি

চট্টগ্রামে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের সদর দপ্তর সিআরবিতে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। হাতাহাতির একপর্যায়ে বাক্স থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে নরসিংদী জেলার জলাশয় ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে এ ঘটনা ঘটে।

রেল সূত্র জানায়, জড়িতরা রেলের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী হলেও নিজেদেরকে রেলওয়ে শ্রমিক দল ও যুবদলের কর্মী বলে পরিচয় দেন। পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ছিনিয়ে নেওয়া দরপত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে রেলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ঐ দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নরসিংদী জেলায় রেলের মালিকানাধীন জলাশয়সমূহ পাঁচ বছর মেয়াদে ইজারা প্রদানের দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল বুধবার। তবে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে দরপত্রদাতারা প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে রক্ষিত বাক্সে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে দরপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি সিআরবি ছেড়ে যেতে হুমকি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন দরপত্রদাতা ইত্তেফাককে জানান, বিভাগীয় অর্থ উপদেষ্টা (ডিএফএ) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিএলআর) দুই ভাই হাসান ও হোসেন এবং চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার কার্যালয়ে খালাসি পদে কর্মরত বাবুর নেতৃত্বে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বাবু দরপত্রদাতাদের কাছ থেকে দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। হাসান ও হোসেন নিজেদেরকে রেলওয়ে শ্রমিক দলের (মঞ্জু গ্রুপ) কর্মী এবং বাবু নিজেকে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের অনুসারী বলে পরিচয় দেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে পিচ্চি হেলাল নামে এক যুবককে দরপত্রদাতাদেরকে বাধা দিতে দেখা গেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। পিচ্চি হেলাল নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে পরিচয় দেন। 

জানতে চাইলে প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আমার কার্যালয়ে কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর কোনো ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। আমি ঐ সময় অফিসেও ছিলাম না। বাইরে থেকে ফিরে দরপত্রের বাক্সটি শূন্য দেখতে পাই। সহকর্মীরা আমাকে জানান বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা দরপত্রটি বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি কেন দরপত্র বাতিল করেছেন সেটা তাকেই জিজ্ঞাসা করুন।

বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আবদুস সোবহান ইত্তেফাককে বলেন, আমাকে কয়েকজন ফোন করে জানান তারা দরপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধা পাচ্ছেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দরপত্র বাতিল করা হয়েছে।