একজন সফল ও সংগ্রামী প্রকাশক ওয়াহিদ তুষার

বাংলাদেশের সকল গণআন্দোলনে কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিনিধিত্ব ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এবার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে লেখক-প্রকাশক ছিলেন নিরব দর্শকের ভূমিকায়। সেই নিরবতা ভেঙে যে গুটি কয়েকজন লেখক-প্রকাশক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে ওয়াহিদ তুষার অন্যতম। তরুণ এই লেখক-প্রকাশকের সাথে চা আড্ডায় উঠে আসে তার সংগ্রাম ও প্রকাশনা জীবনের গল্প।

ওয়াহিদ তুষার। এক স্বপ্নবাজ তরুণ। যেমন নিজে স্বপ্ন দেখেন, তেমনি স্বপ্ন দেখান একটি গোটা প্রজন্মকে। তার ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শূণ্য থেকে ওঠে এসে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর দুঃসাহসিক গল্প অনুপ্রাণিত করেছে শত-সহস্র তরুণকে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বেড়ে ওঠা এই স্বপ্নবাজ তরুণ জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত মাড়িয়ে আজ সফল লেখক ও প্রকাশক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। 

‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’-প্রবাদটি প্রকাশকদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তরুণ প্রকাশক ওয়াহিদ তুষার এই প্রবাদকে অস্বীকার করেন। তিনি সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনাকে কেবল সংস্কৃতিচর্চার অনুষঙ্গ হিসেবে দেখার ঘোর বিরোধী। 

tusar2

তিনি বলেন, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা চর্চার ক্ষেত্র হলেও বইও একটি পণ্য আর প্রকাশনাও একটি ব্যবসা। আমরা এই ব্যবসাকে সংস্কৃতির আল্পনা দিয়ে মূলত বই প্রকাশনা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতিই করেছি।

প্রকাশক ওয়াহিদ তুষার মূলত লেখক। বইপড়া আর লেখার আগ্রহ থেকেই তার প্রকাশনায় আসা। বিগত ২০১৮ সালে বন্ধুর সাথে যৌথভাবে গড়ে তুলেছিলেন ‘প্রজন্ম পাবলিকেশন’ নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। টানা চার বছর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে প্রজন্ম পাবলিকেশন যখন সফলতার পথে ঠিক তখনই অন্যায়ভাবে ওয়াহিদ তুষারকে তার ব্যবসায়িক অংশীদার প্রজন্ম থেকে বের করে দেন। এসময় সাময়িকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান তিনি। গড়ে তোলেন নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘কেন্দ্রবিন্দু’। মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রকাশনা শিল্পে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে তাকে উদ্দীপ্ত করেছেন তার বিজনেস মেন্টর কোচ কাঞ্চন। কোচ কাঞ্চন হলেনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজনেস ও হ্যাপিনেস কোচ। ওয়াহিদ তুষার কোচ কাঞ্চন একাডেমি থেকে লাক্সারি বিজনেস অ্যাণ্ড লাইফস্টাইল কোর্স ‘ব্রেভ’ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ‘ব্রেভ গ্রাজুয়েট’।  

বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর অফিস। গত দুই বছরে প্রায় অর্ধশত বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এর মধ্যে বেশিরভাগ বইই একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাসাহিত্যে আধুনিক বিপ্লবের রূপকার, কবি ও কথাসাহিত্যিক লতিফুল ইসলাম শিবলীর ‘আসমান’ ও ওয়াহিদ তুষারের ‘বক্তৃতা দিতে শিখুন’ বই দুটিই অতিক্রম করেছে ত্রিশতম মুদ্রণ। ওয়াহিদ তুষারের আরও কয়েকটি বই দশ থেকে বিশটি মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক মাসেই কোনো না কোনো বইয়ের পুনর্মুদ্রণ প্রকাশ হচ্ছে। প্রকাশনাশিল্পে যথারীতি ঈর্ষণীয় সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘কেন্দ্রবিন্দু’। আর ওয়াহিদ তুষার এখন প্রকাশনাশিল্পে হয়ে উঠেছেন তারুণ্যের আইডল।

tusar3

ওয়াহিদ তুষার বলেন ‘শিল্পে যদি বাণিজ্য না থাকে, তাহলে সেই শিল্প ধ্বংস হতে সময় লাগে না। বাংলাদেশের  সৃজনশীল প্রকাশকরা শিল্প আর বাণিজ্যকে সমন্বয় করতে না পারায় এই প্রকাশনাশিল্প আজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে। প্রকাশনাশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে আর প্রকাশকদের ব্যবসামুখী করতেই আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। আমি মূলত আগে ব্যবসায়ী পরে প্রকাশক’।

লেখালেখি ও প্রকাশনার বাইরে ওয়াহিদ তুষার একজন সমাজসচেতন তরুণ। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক যুবআন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। সম্প্রতি স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনেও ছিলেন সম্মুখসারিতে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেশকিছু পুরস্কার। এর মধ্যে কোচ কাঞ্চন একাডেমি থেকে লিডারশীপ স্টার অ্যাওয়ার্ড, বইফেরি থেকে বেস্ট সেলার লেখক ও বেস্ট সেলার প্রকাশক অ্যাওয়ার্ড, উদীয়মান প্রকাশক হিসেবে শাহ আবদুল করিম অ্যাওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। বই প্রকাশ, লেখালেখি আর সামাজিক শুভউদ্যোগে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চান তিনি।