নাটোরে পাওনা টাকা চাওয়ায় ৯ জনকে কুপিয়ে জখম

নাটোরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন যুবদলের অন্তত ৯ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে আহত করেছে যুবলীগ। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক । 

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের মধ্যমপাড়া মহল্লায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক শাকিল আহমেদ (২২), মিলন প্রামাণিক (৪০), সাব্বির হোসেন (১৯), জনি পারভেজ (২২), শামীম রহমান (৩৮) ও সাইফুল ইসলামসহ আরও তিনজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল বিক্রির বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে বিএনপির কর্মী রাকিবের সঙ্গে রেষ্টুরেন্ট মালিক গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের দ্বন্দ্ব চলছিলো। সম্প্রতি যুবলীগ নেতা আলমগীরের কাছ থেকে টাকা তুলতে বিএনপি নেতা এমদাদের সাহায্য চান রাকিব। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে রাকিব হোসেন জানান, আলোচনার মাধ্যমে বুধবার টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন আলমগীর। সে অনুযায়ী বুধবার রাতে বিএনপি নেতা এমদাদের সঙ্গে আলমগীরের কাছে যান তিনি। এরপর আলমগীরের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এবং এমদাদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরবর্তীতে তিনি থানায় অভিযোগ জানালে আলমগীর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগের লোকজনসহ এমদাদের সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। 

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শারমিন সুলতানা সাথী ইত্তেফাককে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে শাকিল নামে একজনের দুই পা ও হাতে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল। জনি নামের আরেক যুবকের মাথার বামপাশের হাড় বেড়িয়ে যাওয়ায় রাতেই ওই দুইজনসহ ৫ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান বলেন, যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন ও বিএনপি নেতা এমদাদ প্রতিবেশি। ঘটনার দিন রাতে একটি জানাযায় অংশ নেওয়ার জন্য মধ্যমপাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন বিএনপি নেতা এমদাদের সহযোগীরা। এ সময় যুবলীগ নেতা আলমগীর, জাহাঙ্গীরসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। 

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. গোলাম সারওয়ার ইত্তেফাককে বলেন, আহতদের পক্ষ থেকে থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক।