বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

ক্ষতিপূরণের দাবি ১২ গ্রামের বাসিন্দার, ব্যত্যয় হলে কর্মসূচির ডাক

ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির আশপাশের ১২ গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী ৬ নভেম্বর কয়লাখনি মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের সংগঠন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের বৈগ্রাম বাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য মাইন বিষ্ফোরণের ভূকম্পনে খনি সংলগ্ন ১২ গ্রামের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন তারা। বিষয়টির সমাধানের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়বার লিখিতভাবে কয়লাখনি কর্তৃপকক্ষে অবগতসহ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। 

পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখিন এ ১২ গ্রামের সঙ্গে ছয়দফা চুক্তিও বাস্তবায়ন করেনি খনি কর্তৃপক্ষ। ছয় দফা চুক্তির মধ্যে রয়েছে, কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে চাকরি দেওয়া। ক্ষতিগ্রস্ত ১২ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ পুনর্বাসন করা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভূমিহীন প্রত্যেক পরিবারকে উন্নতমানের বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া। ক্ষতিগ্রস্তদের র ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত প্রদান করা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলেন ব্যবস্থা করা। মসজিদ-মন্দির-স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করে দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাদের জমি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে তাদেরকে উত্তোলিত কয়লা থেকে বোনাস দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৩০ বছর ধরে ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনি সংলগ্ন বৈগ্রামসহ অন্য গ্রামগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য কিছুই পাননি গ্রামবাসী। উপরোন্ত খনি কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীকে বোকা বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছেন। এজন্য আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৬ নভেম্বর থেকে খনির মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ক্ষতিগ্রস্ত ১২ গ্রামের নারী ও পুরুষ।

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল বেরুনী, সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম, আব্দুর রহমান বাচ্চু, গোলাম রব্বানী, মনিরুজজ্জামান, সাইফুল ইসলাম, আলী হোসেন, রবিউল ইসলাম মন্ডল, সাতার ইকবাল নয়ন, আবেদ আলী, সাইফুল ইসলাম সরকার, রেজাউল ইসলামসহ সংগঠনের শতাধিক সদস্য।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে দাপ্তরিক মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।