জেনারেটরের তারে জড়িয়ে মাদি হাতির মৃত্যু

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আবারও বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০ টায় গারো পাহাড়ের মধুটিলা ইকোপার্ক বাতকুচি টিলাপাড়া এলাকায় জেনারেটরের তারে জড়িয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় শহিদুল ইসলাম(৪০) নামে এক কৃষককে আটক তার জেনারেট জব্দ করেছে বনবিভাগের লোকজন।

এদিকে বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আধা পাকা আমন ধানের উপর ব্যাপক নির্যাতন শুরু করেছে বন্যহাতি। ক’দিন পরেই পাহাড়িরা ধান কেটে ঘরে তুলবে। এমন অবস্থায় প্রতিরাতেই হাতির আক্রমণ। গারো পাহাড়ের মানুষগুলোর এখন অবস্থা দেয়ালে পিঠ ঠেকার মতো। হাতির তাণ্ডব লীলা দেখে কেউ কেউ বলছেন, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। 

গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতভর বিজিবি ক্যাম্পের পাশে পাহাড়ি গোঁপে আধাপাকা আমন ধান খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পরেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

বনবিভাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকাবাসী জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নের উত্তর আন্ধারুপাড়ার খলচান্দা এলাকার গারো পাহাড়ে একদল বন্যহাতি রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে উঠতি আমন ফসলের ব্যাপক ধ্বংস করে। এসময় ৮/৭ জন কৃষকের ১০/১১ একর জমির আধাঁপাকা ধানের খেত খেয়ে হাতি পা দিয়ে মাড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা হলেই পাহাড়ের গহীন জঙ্গল থেকে প্রায় ৫০/৬০ টির মতো বন্যহাতি দল বেধে আমন ধানের খেতে নেমে আসে।  এসময় হাতি আধাপাকা ধান খেয়ে সাবার করে ফেলে। হাতি খাবারের সন্ধানে কখনো কখনো লোকালয়েও চলে আসে। এসময় ওরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। 

কৃষাণী জুপতি কোচনী ইত্তেফাককে জানান, বন্যহাতি আমার এক একর ৫ কাঠা জমির ধান খেয়ে সর্বনাশ করে দিয়েছে। আমার খেতের ধান আর কয়দিন পরেই কাটতে পারতাম। সর্বনাশা হাতির দল আইসা আমার খেতের সব ধান একদম পিষষা ফালাইছে। এহন আমরা কি খাইয়া বাঁচবো তা ভাইবা পাইতাছিনা। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা বন্যহাতির অত্যাচার থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান চান।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গারো পাহাড়ে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী বোরো মৌসুমে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। 

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেষ্টরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বনবিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছি। বনবিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে সরকারীভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, হাতি মৃত্যুর ঘটনা শহিদুল ইসলাম(৪০) নামে একব্যক্তিকে আটক ও তার জেনারেটর জব্দ করা হয়েছে।