নারী ফুটবলে খেলবেন মনিকা চাকমা, এটা তার পরিবার থেকে কেউ মেনে নেয়নি। কারণ মেয়ে হয়ে ফুটবল খেলাটা পছন্দ করতেন না তার বাবা। ২০০৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মনিকা চাকমা এখন সবার পরিচিত মুখ। বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করে ফুটবল খেলতেন মনিকা। তার সঙ্গী ছিলেন বড় বোন অনিকা চাকমা।
খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামে মনিকার ফুটবলার হয়ে ওঠার পথটা খুব মসৃণ ছিল না। বাবা মা কখনোই ভাবেননি একদিন মনিকাই বাংলাদেশ মাতাবেন। বাবা-মায়ের পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মেয়ে মনিকা। হয়তো সেও লেখাপড়া শেষ করে সংসারী হয়ে যেতেন। কিন্তু রক্তে ছিল তার ফুটবলের নেশা। তাই সব বাধা পেরিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ফুটবল খেলতেন অদম্য এই নারী।
লক্ষ্মীছড়ির গর্ব দেশের আলোচিত এ নারী ফুটবলার মনিকা চাকমার বাড়ি উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সুমন্ত পাড়া এলাকায়। বাবা পেশায় কৃষক। আর মা রবিমালা গৃহিণী। বাড়িতে যাওয়ার ভালো রাস্তা নেই। একটি ছড়া পার হয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে সেটা পার হওয়া সম্ভব না। শিক্ষক বীরসেন চাকমা ও গোপাল দে ছিল মনিকা চাকমার উঠে আসার পেছনের কারিগর।
মনিকা চাকমার বাবা বিন্দু কুমার চাকমা বলেন, মেয়ের সাফল্যে আমি গর্বিত। মনিকা শুধু এলাকারই গৌরব বাড়ায়নি, সারা দেশকে গর্বিত করেছে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্র মারমা বলেন, 'অভিনন্দন মনিকা চাকমাকে, অভিনন্দন বাংলাদেশ টিমকে। মনিকা আমাদের লক্ষ্মীছড়ির গর্ব।'
মনিকা তার গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার সংবর্ধনায় গিয়ে মনিকা তার নিজের জন্য বা নিজের পরিবারের জন্য কিছু না চেয়ে এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এলাকার উন্নয়নে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের তারকা নারী ফুটবলার মনিকা চাকমা।