অ্যানিমেশনে অনুকরণীয় মেহেদী হাসান

বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য চাকরির পেছনে না ছুটে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু করে দেখানোর সুযোগ অনেক। এমনই একজন উদাহরণ হলেন মো. মেহেদী হাসান, যিনি জেএস মেহেদী নামে বেশি পরিচিত। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি অ্যানিমেশন সেক্টরে কাজ করে যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এক প্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার তৈরি ‘Komon TV’ এবং ‘Js Mahedi’ ইউটিউব চ্যানেল দেশে-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মেহেদী হাসান পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির পেছনে না ছুটে অ্যানিমেশন সেক্টরে কাজ শুরু করেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে শুধুমাত্র দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তার অ্যানিমেশন কাজগুলো যেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তেমনি তা বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‘কমন টিভি’ মেহেদী হাসানের পরিচালিত একটি জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ইউটিউব চ্যানেল। এটি ২০২০ সালের ১৪ মে চালু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। চ্যানেলটি শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সী দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন কনটেন্ট তৈরি করে। বিশেষ করে, এর জনপ্রিয় সিরিজ বোকা বাঘ ও চালাক হরিণ মুগ্ধ করেছে লক্ষাধিক দর্শককে। চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি এবং এর মাধ্যমে মেহেদী হাসান দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

মেহেদী হাসানের পরিচালিত এবং জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ বোকা বাঘ ও চালাক হরিণ ইতোমধ্যে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই সিরিজের ১২তম পর্ব খুব শিগগিরই আসছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সিরিজটি কাহিনী এবং চরিত্রগুলোর মাধ্যমে শিশু-কিশোর এবং পরিবারের সকলের কাছে খুবই প্রিয় হয়ে উঠেছে।

দর্শক ও ফলোয়ারদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মেহেদী হাসান খুব শিগগিরই একটি অ্যানিমেশন কোর্স চালু করতে যাচ্ছেন। এই কোর্সটি নতুন প্রজন্মকে অ্যানিমেশন শিখতে এবং নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পেশাগত দিগন্ত খুলে দিতে সাহায্য করবে। মেহেদী হাসান বলেন, আমি চাই, দেশের তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করুক এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে নতুন কিছু গড়ে তুলুক।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য তিনি কমন টিভি নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করেছেন। এছাড়াও, ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের জন্য তার মেহেদী হাসান নামে ফেসবুক প্রোফাইলও রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তিনি তার কাজগুলো সবার সামনে তুলে ধরছেন এবং তার ফলোয়ারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

মেহেদী হাসানের জনপ্রিয়তা ইউটিউবে অনেক বেশি। ইতোমধ্যে তিনি দুটি সিলভার প্লে বাটন পেয়েছেন, একটি তার জেএস মেহেদী নামে ইউটিউব চ্যানেল থেকে এবং আরেকটি কমন টিভি নামের চ্যানেল থেকে। তার চ্যানেলগুলোতে দিন দিন সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাড়ছে এবং তিনি আশা করছেন খুব শীঘ্রই গোল্ডেন প্লে বাটন অর্জন করবেন।

মেহেদী হাসানের এই সফলতার গল্প বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি নতুন দিক নির্দেশনা। অ্যানিমেশন সেক্টরকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করলে কেবলমাত্র নিজের স্বাবলম্বিতাই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখা সম্ভব।