কমলা হ্যারিস নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প—কে হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? সেটি নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা, মেলানো হচ্ছে নানান সমীকরণও। সাধারণত নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়লাভ করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী বেশিসংখ্যক ভোটারের ভোট (পপুলার ভোট) পাওয়ার পরও বিজয়ী না-ও হতে পারেন। এর কারণ দেশটিতে ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না। সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয় ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ নামে বিশেষ একটি ব্যবস্থায়।
এই ব্যবস্থায় জাতীয় স্তরের নির্বাচনি লড়াইয়ের বদলে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে স্থানীয়ভাবে, তথা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ের মাধ্যমে। অর্থাত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ হলো—একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ ভোট পাবেন। দেশটিতে ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি। মাইন ও নেব্রাস্কা—এই দুটি অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিয়ে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। আর বিজয়ী প্রার্থীর রানিং মেট হবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। ভোটারদের ভোটে পিছিয়ে থেকেও ইলেকটোরাল ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত পাঁচ জন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, যার মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জ ডব্লিউ বুশও রয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি কোনো প্রার্থী ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট না পান বা ‘টাই’ হয়, তাহলে কীভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে? বিবিসির খবর অনুযায়ী, ইলেকটোরাল ভোটে যদি কোনো প্রার্থী এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পান, সেক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস ভোট দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। এক্ষেত্রে প্রার্থী দুই জন নয়, বরং সর্বাধিক ইলেকটোরাল ভোট পাওয়া তিন জন প্রার্থী থাকবেন, যাদের ভেতর থেকে এক জনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাছাই করবেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা। বাকি দুই জন প্রার্থীর ভেতর থেকে এক জনকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। যদিও এরকম ঘটনা মার্কিন ইতিহাসে একবারই ঘটেছে। ১৮২৪ সালে এভাবেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন কুইনসি অ্যাডামস।
এনবিসি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে নতুন নির্বাচিত কংগ্রেসের অধিবেশন বসবে। ফল টাই হলে সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হবে। বর্তমানে ২৬টি অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধিদলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের, অন্যদিকে ২২টি অঙ্গরাজ্যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের এবং দুটি রাজ্যে (মিনেসোটা এবং উত্তর ক্যারোলিনা) হলো সমান। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের সদস্যরা তাদের দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য নন, তবে এমন পরিস্থিতি তারা অবশ্যই দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে প্রচুর চাপের সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনেটে পূর্ণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। প্রত্যেক সিনেটর একটি করে ভোট দিয়ে বাকি দুই প্রার্থীর একজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।