মনের মতো সঙ্গী খুঁজছেন বাঁধন

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। গেল কয়েক বছর ক্যারিয়ারের বেশ সু-সময় পার করছেন তিনি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কাজ করেছেন বলিউডেও। ভারতেও অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী রয়েছে এই অভিনেত্রীর।

তবে এতো অনুরাগীর ভালোবাসায় সিক্ত বাঁধন ব্যক্তি জীবনে এখনো একা। ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাশরুর হোসেন সিদ্দিকীকে বিয়ে করেছিলেন বাঁধন। দাম্পত্যজীবনের মাত্র চার বছর পরই ভেঙে যায় সেই সংসার। এরপর থেকে একমাত্র মেয়ে মিশেল আমানি সায়রাকে নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে থাকছেন এই অভিনেত্রী।

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি জীবনের ৪০টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন বাঁধন। ২৮ অক্টোবর ৪১-এ পা রেখেছেন তিনি। এই সময়ে এসে উপলব্ধি করছেন একজন সঙ্গীর- বাঁধন নিজেই এ কথা জানিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে। বাঁধন জানিয়েছেন, তার মেয়ে সায়রা চায় মায়ের জীবনে কেউ আসুক। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি নিয়ে সোজা মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, আবার নতুন করে, নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চান অভিনেত্রী।

মেয়ে সায়রার সঙ্গে বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের বায়না তুলে ধরে বাঁধন বললেন, ‘আমার মেয়ে তো এখন বড় হয়েছে। মায়ের সবকিছুই একা করতে হয়, কষ্ট করতে হয়, যুদ্ধ করতে হয়- ও বুঝছে। সবকিছু দেখে মেয়ের মনে হয়েছে, মায়ের একজন সঙ্গী দরকার।’

বাঁধন বললেন, ‘এখন অনেক বেশি মনে করি যে একজন জীবনসঙ্গী থাকতেই পারে।’ কেমন জীবনসঙ্গী চান, সে বিষয়ে বলেন, ‘জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে আমাকে আমার মতো যে গ্রহণ করবে, সেই জিনিসটা খুব জরুরি। জীবনসঙ্গী শব্দটা যে বুঝবে, সে রকম কেউ যদি আসে, নিঃসন্দেহে সঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে পথচলা যাবে।’

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

চল্লিশের কোটায় এসেও বিয়ের পরিকল্পনা সামনে আনার কারণ অকপটে তুলে ধরেছেন বাঁধন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘৪০ বছর বয়স পার হয়ে গেছে তো, এখন অন্য রকম একটা জীবন লাভ করছি। নতুন জীবনে মনে হয়েছে, একজন সঙ্গী থাকতেই পারে। সঙ্গী ছাড়া তো মানুষ থাকতে পারে না। আমার পুরো জীবনটা সঙ্গী ছাড়াই কেটেছে, অলমোস্ট।’

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

অতীত নিয়ে আক্ষেপ করে বাঁধন বললেন, ‘বিয়ে হোক বা যাই হোক, আমার জীবনের পথচলায় কখনও সত্যিকারের একজন সঙ্গী পেয়েছি । সব সময় হয় একজন দানব পেয়েছি, না হলে যে আমাকে অত্যাচার করছে, এ রকম মানুষ পেয়েছি। আমাকে অ্যাবিউজ করছে, এ রকম মানুষই পেয়েছি। তাই ওই অর্থে আমি কোনো জীবনসঙ্গী পাইনি, এটা সত্যি। সব মিলিয়ে এখন মনে হয়েছে, পথচলার একজন সঙ্গী হতেই পারে।’