সরকার চাইলে সেন্টমার্টিনকে শতভাগ দূষণমুক্ত করা সম্ভব। এ জন্য দরকার একটা নীতিমালা। এ নীতিমালা তৈরি করে সরকার কঠোর হলেই সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা পাবে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া লাগবে না। হঠাৎ করে কোনো পদক্ষেপ নিলে এর সঙ্গে যুক্ত ১২ হাজার মানুষের জীবনে সামাজিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর পল্টনের অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটনরক্ষা-উন্নয়ন জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশি, তিলোত্তমা রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী জাবেদ রহমান, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম, বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সাবেক সভাপতি নাদিরা কিরণ, অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, যমুনা টিভির শওকত মঞ্জুর শান্ত, এখন টিভির আবীর, সূর্যস্নান রিসোর্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরানুল আলম, সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা বেলাল আহমেদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অনাহারে দ্বীপবাসি, হাজার হাজার যুবকের চাকুরিচ্যুতি সর্বশান্ত উদ্যোক্তা, পর্যটন ব্যবসায় ধস ও মানবিক বিপর্যয়ের আশংকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটনরক্ষা-উন্নয়ন জোট।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটনরক্ষা-উন্নয়ন জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশি বলেন, সরকার বাস্তবতা না বুঝেই সেন্ট মার্টিনে পর্যটন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা করা হলে সেখানকার বাসিন্দা, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। সেন্টমার্টিনে বহু ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ আছে। ফলে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে। এটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, যারা পরিবেশের কথা বলে গলা ফাটান, তারাই বাসায় এসি, গাড়িতে এসি, অফিসে এসি চলান। তাই সব কিছু জটিল না করে সমাধানের পথ সহজ করতে হবে। আমরা ওয়াদা করছি, আমাদের সঠিক গাইড লাইন দেন। আমরা তা মেনে চলব।
মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব খাতে ব্যাপক অবদান রেখেও পর্যটন খাত উপেক্ষিত এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান আজ হুমকির মুখে।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সময়সীমা সীমিত করা হলে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে এমন মন্তব্য করে শিবলুল আজম জানান, এতে দেশের পর্যটন খাত ধংসের পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাত রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বারবার চিঠি দেয়া হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
নাদিরা কিরণ বলেন, কঠোর নীতিমালার মধ্য দিয়ে পর্যটনকে পরিবেশবান্ধব রাখতে হবে এবং প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য রেখে রক্ষা সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করতে হবে। মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
আবুল কাশেম বলেন, কচ্ছপের ডিম বাঁচাতে গিয়ে মানুষের জীবন জীবিকা বন্ধ করা যাবে না। এ ছাড়া সেন্ট মার্টন ঘিরে ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। অথচ আমরা বন পাহাড় উজাড় করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। ঢাকায় ট্যানারি শিল্প রেখে পরিবেশের ক্ষতি করছি।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ণ করে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর দাবি জানিয়ে পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলেন, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সেখানে বসবাস করা ১০ হাজার মানুষ বেকার হয়ে যাবে। কারণ তাদের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এ ছাড়া সেন্টমার্টিনে যেসব উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ট্যুরিজমের সঙ্গে জড়িত তারা পথে বসে যাবে। তাই সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে সেখানে পরিবেশ আইন কঠোর করা জরুরি। যাতে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী সবাই সচেতন হতে পারে। তারা বলেন, এই খাতকে রক্ষায় বিজ্ঞান সম্মত পর্যটন নীতি বাস্তবায়ন করা জরুরি। মানুষ মেরে পরিবেশ রক্ষা করতে চাওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।
এ ছাড়া অন্তত চার থেকে পাঁচমাস পর্যটনের সময় বাড়াতে সরকারের প্রতি আহবান জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, পরিবহণ খাত থেকে শুরু করে সেন্ট মার্টিনে পর্যটন ব্যবসার সাথে ১৭টি সেক্টর ওতোপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে এবং এর মধ্যে ২০৯ টি হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। যেখানে ১২ হাজারেরও অধিক মানুষ নানাভাবে যুক্ত।