একরাতে ১৫টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি, চিঠিতে চোরের বিকাশ নম্বর

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে একরাতে সেচ ও শিল্পশ্রেণির ১৫টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। মিটার চুরির পর মিটারবক্সে একটি চিঠিতে বিকাশ নম্বর রেখে গেছে চোরচক্র। 

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হায়দারপুর, কাজীপুর ও ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, শনিবার কাজ শেষে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন সেচ ও শিল্প সংযোগের মালিকরা। পরদিন সকালে উঠে বাড়ির আবাসিক মিটারে সংযোগ থাকলেও সেচ ও শিল্প সংযোগে বিদ্যুৎ না পেয়ে মিটার বক্সের কাছে গিয়ে দেখেন মিটার চুরি হয়ে গেছে। তবে বক্সের পাশে একটি চিঠি পড়ে আছে। তাতে উল্লেখিত নম্বরে ফোন দিলে চোরচক্রের সদস্যরা জানান, এই নম্বরে টাকা বিকাশ করলে খোঁজ মিলবে চুরি যাওয়া মিটারের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতেই হায়দারপুর গ্রামে ২টি শিল্প ও ৩টি সেচ, কাজীপুর গ্রামে ১টি শিল্প ও ২টি সেচ এবং ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামে ৪টি শিল্প ও ৩টি সেচ সংযোগের মিটার চুরি হয়েছে। 

হায়দারপুর গ্রামের চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক মিটারের মালিক জামাল সরকার জানান, রোববার সকালে আমার ভাই সেচ ঘরে গিয়ে দেখে ঘরের সঙ্গে লাগানো মিটারটি নেই। মিটারের বক্সের ভিতরে একটি চিঠিতে মুঠোফোন নম্বর লেখা আছে। পরে আরও কয়েকটি সেচ ঘরে খোঁজ নিলে দেখা যায় তাদের ও মিটার নেই। 

তিনি আরও জানান, রেখে যাওয়া নম্বরে ফোন দিলে চোরচক্রের একজন বলেন, মিটার প্রতি আমাদের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিলে মিটার কোথায় রাখা আছে বলে দিবো। মিটার প্রতি ১ হাজার টাকা করে দিতে চাইলে তারা বলেন, মিটার চুরি করতে অনেক কষ্ট হয়েছে, টাকা বেশি দিতে হবে। 

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মোক্তার হোসেন জানান, ১১টি মিটার চুরির খবর পেয়েছি। এ ব্যাপারে গ্রাহকেরা মামলা না করলে আমরা মামলা করবো। চুরির এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের কেউ জড়িত নেই বলেও জানান তিনি। 

কামারখন্দ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, আশা করছি দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে চুরি যাওয়া মিটার উদ্ধার করতে পারবো।