ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করেছে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সোমবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনের এতিমখানা মার্কেটের নামে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলমুক্ত করা হয়।
জিয়াউল হকের পরিবার দাবি করেছেন, সরকারের কাছ থেকে আগে ইজারা নিয়ে জমিটি ব্যবহার করলেও সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করায় সড়ক ও জনপথ জমিটি নিয়ে গেছে। জিয়াউল হক ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বড় ভাই।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, নোটিশ দিয়ে আমরা রূপাতলী থেকে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। পর্যায়ক্রমে ঢাকা-বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়কের রাস্তার দুই পাড়ে সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দখলদারদের কোনো পরিচয় হতে পারে না। দখলদারকে আমরা দখলদার হিসেবেই চিনতে চাই। সড়ক ও জনপথের জমি অবৈধভাবে দখল রাখবে, সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে শাহিনুর রহমান খান এতিমখানা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, জিয়াউল আহসানের বড় ভাই জিয়াউল হক তাদের বাবার নামে করা নাসির উদ্দিন এতিমখানা ও হাফিজি মাদরাসা দেখভাল করতেন। এতিমখানা মার্কেটের জমিও তার নামে ইজারা নেওয়া ছিল।
তিনি জানান, জিয়াউল আহসান যখন র্যাবে ছিলেন তখন র্যাবের আরেক সদস্য কামরুলকে দিয়ে তার সমস্ত ব্যবসার দেখভাল করাতেন। কামরুলই এতিমখানা মার্কেট পরিচালনা করতেন। ২০২১ সালে আমি পজিশন বাবদ অগ্রিম সাড়ে ৪ লাখ ও ডেকোরেশন বাবদ ৩ লাখ টাকা দেই। প্রতিমাসে ১১ হাজার টাকা ভাড়া ছিল। আমাদেরকে বলেছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইজারা আছে, কোনো সমস্যা হবে না।
এদিকে জিয়াউল হক দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার বোন লুৎফুন্নাহার বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে মার্কেট গড়ে তার আয়ে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা ও হাফিজি মাদরাসাটি চলতো। দেখভাল করতেন বড় ভাই জিয়াউল হক। সম্প্রতি ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। আমরা পুনরায় ইজারা নিতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সরকার ইজারা দেয়নি। আমরাও সরে এসেছি।