জুলাই-আগস্টের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গন যেন থমথমে। প্রায় সব ফেডারেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামীপন্থিরা আড়ালে চলে গেছেন। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কয়েকটি ফেডারেশন ছাড়া বাদবাকি সব ফেডারেশনের সভাপতিকে অব্যাহতি দিয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, হকি ফেডারেশন, সুইমিং ফেডারেশনসহ কয়েকটি ফেডারেশনের সভাপতি পরিবর্তন হয়নি। এই তিন ফেডারেশনেও যারা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তারাও আড়ালে চলে গেছেন।
খোঁজ নেই সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের, একই অবস্থা হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদের, ফেডারেশনের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল এহসান রানাসহ হকির অনেকের খোঁজ নেই। দ্বিতীয় যুগ্ম-সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স থাকলেও না থাকার মতো। হকি ফেডারেশন যেন ভূতুড়ে বাড়ি। ওখানে কাউকে পাওয়া যায় না। ফেডারেশনে গিয়ে জানা গেল, কেউ-ই আসেন না। শেষ বার নাকি মে মাসে সভা হয়েছিল।
তাহলে এ অবস্থায় হকির কর্মকাণ্ড চলছে কীভাবে। এশিয়ান হকির কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল গেল অথচ ফেডারেশন থেকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। কোথায় কার নাম ফেডারেশন থেকে প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দলের ম্যানেজার নির্ধারণ করা, কংগ্রেসে প্রতিনিধি পাঠানো, বিওএতে প্রতিনিধি পাঠানো- কোনো কিছুই ফেডারেশন থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া একটি ছবিতে সাজেদ আদেল, হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাহমুদুল হক, ফেডারেশন সভাপতির প্রতিনিধি হয়ে যিনি ফেডারেশনে আসতেন রিফাতুল ইসলামকে দেখা গেছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় যুগ্ম-সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্সের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কীভাবে কী হচ্ছে আমরা নিজেরাও জানি না। আমি যুগ্ম-সম্পাদক অথচ আমি কিছু-ই জানি না। লোকজনের মুখে শুনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত সার্চ কমিটির মেজর ইমরোজ (অব.) ভাইয়ের পরামর্শে চলছে হকি ফেডারেশন।'
এ ব্যাপারে কিছু দিন আগে ইমরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টা শুনে হেসে উড়িয়ে দেন এবং অস্বীকার করে বলেন, 'আমি ওদের (হকি ফেডারেশন) কোনো কাজের ইন্টারফেয়ার করি না।' ইমরোজের প্রশ্ন- 'এ সব জ্ঞানী লোকজন কারা? যে আমার নাম ছড়ায়। আমার ভাই এসব কাজে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময় নেই। আমাকে সরকার থেকে যে কাজটুকু করতে বলা হয়েছে আমি ওটা করে বিদায় নিতে চাই। আমি এক সময় হকি খেলতাম খেলা শেষ করে আর ফেডারেশনে যাইও না।'
হকির সাবেক তারকা খেলোয়াড় আরিফুল হক প্রিন্স। তার কণ্ঠে ক্ষোভের আগুন। প্রিন্স বলছেন, 'আওয়ামী লীগের লোকজনদের ফেডারেশনের বিভিন্ন কাজে পুনর্বাসন করানো হচ্ছে। আবাহনীতে গেলে কাউকে পাওয়া যায় না, তারা গোপনে ঘুরছেন, অথচ আবাহনীর লোকজন ক্রীড়াঙ্গনের সব জায়গায় ঢুকছেন। হকিতে মোমিনুল হক সাঈদের ঘনিষ্ঠ এবং ক্যাশিয়ার বলে সবাই জানে, তিনি মাহমুদুল হক। তারাই সবখানে সেটেল্ড হচ্ছেন। ফ্যাসিস্টদের দোষরদের পুনর্বাসন করানো হচ্ছে।'