প্রথমবার ফেল, এবার কোন পথে নগর পরিবহন সেবা?

নগর পরিবহন প্রকল্প তিন বছর আগের নেওয়া উদ্যোগ নানা জটিলতায় মুখ থুবড়ে যায়। সম্প্রতি প্রকল্পটি আরও আধুনিকায়ন করে নতুন করে রাজধানীতে সেবা চালুর ঘোষণা দেয় ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনকে জনবান্ধব ও শৃঙ্খলায় ফেরাতে এর বিকল্প নেই।   

জানা গেছে, তৎকালীন সময়ে নগর পরিবহন সেবা পরীক্ষামূলকভাবে মোহাম্মদপুর থেকে ঘাটারচর পর্যন্ত চালু করা হয়। বর্তমানে এর সেবা না থাকলেও, এর স্বাক্ষী হয়ে আছে কিছু বাস স্টপেজ আর যাত্রী ছাউনি। ওই সময়ে একই রুটে এক কোম্পানির বাস চালানোর নীতিও মেনে চলা হয়নি। এমনকি লেগুনা বন্ধে অভিযানের কথা থাকলেও- তা করা হয়নি। নগর পরিবহন চালু করার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। বলা হয়ে থাকে, বাস মালিকদের চাপেই বাস্তবায়ন করা যায়নি রুট রেশনালাইজেশনের পরীক্ষামূলক চলাচল। যদিও এ অভিযোগ মানতে নারাজ তারা।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতের ট্রেজারার এহসান আহমেদ খোকন বলেন, আমাদের যাত্রীরা এখনও সচেতন হয়নি। এটা যতক্ষণ না যাবে ততক্ষণ সুষ্ঠু গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হবে। আমরা চাই মালিক এবং শ্রমিক সবাই তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাক।
 
তবে প্রথম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রুট রেশনালাইজেশনে সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার। তিনি বলেন, ২০টা বাস, তার মালিক হচ্ছে ২৫ জন। তাদের মধ্যে ঝামেলা, ব্যবসায় মনোযোগ নেই। আরেকটা হচ্ছে, অবৈধ বাস ঢুকে যাওয়া। তখন তারা বলতে শুরু করলো তাদের লস হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, পুরাতন যে বাসগুলো ছিল, যাদের রুট পারমিট নাই সেগুলো রেখে আমরা এ প্রকল্প চালাতে চেয়েছি। কিন্তু এটি ব্যর্থ হয়েছে এবং এটা স্বাভাবিক ছিল। এজন্য একটা কোম্পানি গঠন করতে হবে এবং সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে পুরোপুরি। না হলে এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে না।

সম্প্রতি ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, নগর পরিবহনের জন্য আমরা ৪২টি রুটেই আবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বাস মালিকরাও এতে সাড়া দিয়েছেন। ৪০টিরও বেশি কোম্পানি থেকে প্রায় সহস্রাধিক বাসের আবেদন আমরা পেয়েছি। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ আমাদের পরিকল্পিত রুটে বাস চালাতে সক্ষম হবো। এছাড়াও নগর পরিবহনে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা যাবে র‍্যাপিড পাসও।

আগের প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার ব্যাপারে ধ্রুব আলম বলেন, তৎকালীন যারা ছিলেন মালিক সমিতি বা এই প্রজেক্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের সবার সদিচ্ছার অভাবেই সফল হয়নি এই প্রজেক্ট। তবে আশার খবর হলো, সরকার পরিবর্তন হওয়ায় আবার নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। বাস্তবসম্মত করা হচ্ছে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পকে। প্রথম পর্যায়ের ব্যর্থতার পর নতুন সরকারের সময়ে বাস রুট রেশনালাইজেশনের সফলতা নিয়ে আশাবাদী ডিটিসিএ। 

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ঢাকায় ৩৪টি ও শহরতলি পরিবহন নামে ঢাকার বাইরে ৮টি রুটসহ মোট ৪২ রুটে চলবে বাস। এক রুটে একটি মাত্র কোম্পানির বাস চলবে। যেখানে সেখানে কেউ উঠা-নামা করতে পারবে না। আমরা চেষ্টা করছি সবগুলো বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে। দেখা যায়, একই কোম্পানির বাস নিজেরাই প্রতিযোগিতা করে; অন্য কোম্পানি তো বাদই দিলাম। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হবে না। পস মেশিন চলে এসেছে। আপনি ডিজিটালি টিকিট কাটবেন, কন্ডাকটরকে টিকিট দেখিয়ে উঠবেন, গন্তব্যে পৌঁছে টিকিট দেখিয়ে নেমে যাবেন। আগামী জুন থেকে মেট্রোরেলের মতো র‍্যাপিড পাস দিয়েও ব্যবহার করা যাবে এসব বাস। পর্যায়ক্রমে বসানো হবে ক্যামেরা। 

বিশ্লেষকদের মনে তাই প্রশ্ন, প্রথম পরীক্ষায় ফেল করা নগর পরিবহন সেবা এবার পাস করবে তো?