সাভারে পরকীয়া সন্দেহে এক গৃহবধূকে মাথা ও দুই হাত কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ নভেম্বর) গভীর রাতে সাভারের দত্তপাড়া এলাকায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির পাশের একটি জঙ্গল থেকে ওই নারীর চার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই গৃহবধূর নাম শান্তনা ওরফে শান্তা (২৮)। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া এলাকার বাসিন্দা। সাভারের দত্তপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় স্বামী নয়নের (৩৫) সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। নয়ন টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার মর্শামোড়া গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর (রাজমিস্ত্রি)।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিনুর কবির মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, পরকীয়া সন্দেহে গৃহবধূ শান্তনাকে হত্যার পর নগ্ন লাশকে চার খণ্ড করে লুকিয়ে রাখে তার দ্বিতীয় স্বামী নয়ন। শান্তনার প্রথম স্বামী জহুরুলের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। ৭ মাস আগে নয়ন শান্তনার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে ফুসলিয়ে সাভারে নিয়ে আসে। জহুরুলের ঘরে শান্তনার ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। এছাড়া ঘাতক নয়নেরও আগের স্ত্রী এবং তিন সন্তান রয়েছে।
শাহিনুর কবির বলেন, সাভারে বসবাসের শুরু থেকেই শান্তনা এবং নয়নের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। নয়ন সবসময় সন্দেহ করতো শান্তনা অন্য ছেলেদের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। নিহত শান্তনা গত তিনদিন আগে তার মাকে ফোন করে জানায়, নয়ন সবসময় তাকে সন্দেহ ও মারধর করে। মাকে ফোন করার বিষয়টি নয়ন জানতে পেরে শান্তনাকে মারধর করে। এতে শান্তনা রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলে নয়নও তার পিছু পিছু বের হয়ে যায়। এ সময় তারা দত্তপাড়া এলাকার সেতু নার্সারির পাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়েছি যে, নয়নই শান্তনাকে হত্যা করেছে। হত্যার পর শান্তনার জামাকাপড় খুলে ফেলে এবং মাথা ও দুই কনুই কেটে ফেলে যেন লাশ শনাক্ত করা না যায়।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে মস্তকহীন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই স্থান থেকে লাশ ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় কাটা মাথা-হাত উদ্ধার করে। হত্যার আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে একটি দা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে নিহতের রক্তমাখা জামাকাপড়ও পাওয়া গেছে। সেখানে ঘাতকের এক জোড়া স্যান্ডেলও পড়ে ছিল।
নিহতের বোন পারুল বলেন, আমার বোনের একটি মেয়ে আছে নবম শ্রেণীতে পড়ে। পরকীয়ার পর নয়নকে ছাড়া সে কিছুই বুঝতো না। সোনার সংসার ছাইরা নয়নের সঙ্গে পালায় গেছে। আমরা বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, এর বিচার চাই।
সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা বলেন, নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বোন পারুল বেগম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার নয়নকে আদালতে পাঠানো হবে।