প্রায় তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করা ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ ফের চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর যাত্রীবাহী সব বাস চলবে এই ‘ঢাকা নগর পরিবহনের’ আওতায়। তবে বাসের মালিকানা থাকবে কোম্পানিগুলোর কাছে। নগর পরিবহনের আওতায় বাস চালাতে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ৮০টি পরিবহন কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে, আবেদন করেছে ৬২টি কোম্পানি। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আগামী মার্চে এটি চালু করা যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম।
তিনি জানান, আমরা ধাপে ধাপে কাজ করছি। তবে এখন আমরা ৪২টি রুটেই আবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বাসমালিকরাও এতে সাড়া দিয়েছেন। ৪০টিরও বেশি কোম্পানি থেকে প্রায় সহস্রাধিক বাসের আবেদন আমরা পেয়েছি। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ আমাদের পরিকল্পিত রুটে বাস চালাতে সক্ষম হব।
এছাড়াও নগর পরিবহনে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা যাবে র্যাপিড পাস। আগের প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার ব্যাপারে ধ্রুব আলম বলেন, তৎকালীন যারা ছিলেন, মালিক সমিতি বা এই প্রজেক্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সবার সদিচ্ছার অভাবে সফল হয়নি এই প্রজেক্ট। তবে আশার খবর হলো, সরকার পরিবর্তন হওয়ায় আবার নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। বাস্তবসম্মত করা হচ্ছে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পকে। প্রথম পর্যায়ের ব্যর্থতার পর নতুন সরকারের সময়ে বাস রুট রেশনালাইজেশনের সফলতা নিয়ে আশাবাদী ডিটিসিএ।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ঢাকায় ৩৪টি ও শহরতলি পরিবহন নামে ঢাকার বাইরে আটটি রুটসহ মোট ৪২ রুটে চলবে বাস। এক রুটে একটি মাত্র কোম্পানির বাস চলবে। যেখানে সেখানে কেউ ওঠানামা করতে পারবে না। আমরা চেষ্টা করছি সবগুলো বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে। দেখা যায়, একই কোম্পানির বাস নিজেরাই প্রতিযোগিতা করে; অন্য কোম্পানি তো বাদই দিলাম। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হবে না। পস মেশিন চলে এসেছে। যাত্রীরা ডিজিটালি টিকিট কাটবেন, কন্ডাকটরকে টিকিট দেখিয়ে উঠবেন, গন্তব্যে পৌঁছে টিকিট দেখিয়ে নেমে যাবেন। আগামী জুন থেকে মেট্রোরেলের মতো র্যাপিড পাস দিয়েও ব্যবহার করা যাবে এসব বাস। পর্যায়ক্রমে বসানো হবে ক্যামেরা।
এর আগে রাজধানীর বিশৃঙ্খল বাস চলাচলের চিত্র পালটে দিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত চালু হয় নগর পরিবহন। প্রথম কয়দিন নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী ওঠানামা, বিআরটিএ নির্ধারিত হারে কিলোমিটারের হিসাবে ভাড়া আদায়ে যাত্রীরা সন্তুষ্ট ছিলেন। এরপর আরো দুইটি রুট চালু হয়। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভায় জানানো হয়েছিল, পাঁচ মাসের মধ্যে আরও দুটি রুটে নামবে নতুন বাস। তবে নতুন দুটি রুট আর চালু হয়নি। কথা ছিল, এসব রুট চালু হলে আগে থেকে যে বাস চলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, যা আর হয়নি।
গত সোমবার রুট রেশনালাইজেশন কমিটি বৈঠক করে আগের উদ্যোগকে আবার জোরালোভাবে শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে নগর পরিবহন চালুর বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল বলেন, এজন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএর সভা আছে। ঐ কমিটি তার আগে তাদের সুপারিশ দেবে। কমিটির দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।