ইপিজেড শ্রমিক আইনের খসড়া অনুমোদন

শিল্প-কারখানাগুলোতে কর্মবিরতি ও লকআউটের অধিকারসহ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের অনুমতি দিয়ে মন্ত্রিসভা সোমবার খসড়া ‘বাংলাদেশ ইপিজেড লেবার এ্যাক্ট, ২০১৮’ অনুমোদন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমিকবান্ধব করার লক্ষ্যে এই আইনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সুপারিশ এবং কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ 

তিনি জানান, শ্রমিকদের জন্য নমনীয় করে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং একটি শ্রমিক সংগঠন গঠনের জন্য ন্যূনতম সদস্যপদের সীমা ৩০% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে। এই আইন অনুসারে যেকোন ধর্মঘট কার্যকর করার জন্য ইপিজেড-এর শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের তিন-চতুর্থাংশের পরিবর্তে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের শ্রমিককল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারবে।

নতুন আইনে, চাকরিতে ইস্তফা দেওয়ার জন্য একজন কর্মী ‘সার্ভিস বেনিফিট’ হিসাবে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী চাকরি জীবনের প্রতিবছর থেকে ৩০ দিনের পরিবর্তে ৪৫দিনের সুবিধা পাবেন, যা চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: ‘সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় নীতিমালা’

এই আইনের আওতায়, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) পাশাপাশি ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ কলকারখানাসমূহ পরিদর্শন করতে পারবে। এ আইনে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং শ্রমিক সংগঠন গঠনের পূর্বে ‘রেফারেন্ডাম’-এর বিধান ও নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার তিন মাসের মধ্যে শ্রমিক সংগঠন গঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান বাতিল করা হয়েছে। বাসস।

ইত্তেফাক/এমআই