চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মোটরসাইকেলসহ সবুজ নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদার টাকা না পেয়ে পাঁচজন মিলে সবুজকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাগর।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান লালন এ তথ্য জানান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের নাম প্রকাশ করলেও অপর দুজনের নাম গোপন রেখেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জহুরুল, সাগর ও পাপ্পু।
পুলিশ জানায়, সবুজ হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ৪ সন্দেহভাজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা ফুড গোডাউনের নৈশপ্রহরী জহুরুল ইসলাম ও বক্সিপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাগর বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চাঁদাবাজি করতে গিয়েই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। সবুজ মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তার কাছে থাকা কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে খুনিরা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। গত বুধবার সবুজকে ডেকে এনে ফরিদপুর এলাকার মাঠের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় মোটরসাইকেল বিক্রির কথা। মাঠের এক মেহগনি বাগানে নিয়ে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সবুজ টাকা নেই জানালে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে সবুজ মারা গেলে তার লাশের ওপর মোটরসাইকেল রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহত সবুজ আলী উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন।
সবুজের বোন জানায়, মঙ্গলবার বিকালে সবুজের মোবাইলফোনে রিং হচ্ছিল। সে সময় সবুজের মা রিং রিসিভ করতে যেতে চাইলে সবুজ নিজেই গিয়ে ফোন রিসিভ করে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হন। পরে আর বাড়ি ফেরেননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান লালন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার এজাহার দায়ের করেছেন নিহত সবুজের পিতা জয়নাল আবেদীন। অপর দুই খুনিকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা জানান, ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।