ফের বেক্সিমকো-ডরিনের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

গাজীপুর মহানগরীতে আবারও চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও ডরিন ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল শ্রমিকরা সড়কের দুটি এলাকায় অবরোধ শুরু করেন, ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

এর মধ্যে জিরানি এলাকায় সকাল ৮টা থেকে ডরিন ফ্যাশন লিমিটেডের এবং চক্রবর্তী এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ করছেন।

গত শনিবার থেকে টানা অবরোধের কারণে চারদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে। এতে ওই সড়ক পথে চলাচলকারী যাত্রী ও আশেপাশের কারখানার পণ্যবাহী শত শত যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌছাঁতে পারছে না। এতে ওই পথে সৃষ্টি হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। তবে দূরপাল্লার যানবাহন বিকল্প পথে চলাচল করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাসের বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা সোমবার রাত ১১টার দিকে সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে যায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা চতুর্থ দিনের মতো একই স্থান চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের চক্রবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। এর আগে সকালে কারখানার সামনে থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে সড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। রাত ৭টা পর্যন্ত শ্রমিকদের সড়কেই অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বেক্সিমকো একাধিক শ্রমিক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না। মাস প্রায় শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত অক্টোবর মাসের বেতন পাননি। টাকার অভাবে সংসার চালাতে পারছেন না। সামনে সন্তানদের স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা। স্কুল থেকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা দিশেহারা হয়ে উপায়ন্তর না দেখে সড়কে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বেতন পেলেই কাজে ফিরবেন।

অন্যদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা ডরিন ফ্যাশন চালুর দাবিতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মত জিরানিতে একই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।

ডরিন ফ্যাশনের অপারেটর কামাল হোসেন বলেন, গত ১ নভেম্বর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। গত রোববার খুললেও দুপুরের পর ফের ছুটি দেয়া হয়। সোমবার সকালে তারা কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখেন কারখানা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ না হলেও কেন কারখানা বন্ধ করা হয়েছে তা বলা হয়নি। বহু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাই কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।

কাশিমপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনের মতো মঙ্গলবারও শ্রমিকরা সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে তারা কোনো ভাঙচুর করেনি। আজ বেক্সিমকোর শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে। কারখানার আশপাশের এলাকায় থানা ও শিল্পপুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অ্যামাজান নিটওয়্যার পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।