দেশীয় মাছ রক্ষায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার উপজেলার দুই নদীতে ছয়টি অভয়াশ্রম এলাকা গড়ে তোলা হয়। এসব অভয়াশ্রমে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগ তেমন নজরদারি করছে না। এতে দেশি প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভয়াশ্রামগুলো হল ঘাটিনা রেলসেতুর এলাকায় করতোয়া নদীতে ঘাটিনা, পালপাড়া ও সোনতলা এবং স্বরসতী নদীর মোরদহ, দহকুলা ও মোহনপুর।
স্বরসতী নদী মোরদহ এলাকার বাসিন্দা আলমগীর বলেন, নামেই শুধু মাছের অভয়াশ্রাম। কিন্তু নদীর অভয়াশ্রামে চলছে এক ধরণের ব্যবসা। এলাকার প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে স্থানীয় লোকেরা অবাধে সকল ধরণের দশীয় মাছ ধরে প্রকাশ্যে তা বাজারে বিক্রি করছে। কতদিন নাগাদ নদীতে দেশীয় প্রজাতি মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিবে- তা দেখার জন্য নদী এলাকার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে।
করতোয়া নদী এলাকার ঘাটিনা এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, মৎস্য অভয়াশ্রামের বর্তমানে শুধুমাত্র একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। মৎস্য অফিসের কোন প্রকার তদারকি না থাকায় মাছ শিকারীরা বরশী, কারেন্টজাল ও চায়না জালসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিদিন মাছ শিকার করে চলেছে। এ সাথে কমিটির অনেক সদস্যও জড়িত রয়েছেন।
উপজেলা জেলা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ২০২০ সালে ওই নদী দুটির ছয়টি অংশ অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিবছর নদীর অভয়াশ্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। মৎস্য বিভাগ থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল উদ্ধার করে তা পুড়িযে দেওয়া হলেও অসাধু মৎস শিকারীদের রোধ করা যাচ্ছে না। মৎস্য বিভাগ থেকে দেশীয় মাছ ডেলা, সরপুটি, বাউস, গোলসা, পাবদা, রানি, বাঘাইর, বোয়াল, বাইম, চেলা, চাপিলা, গাগলা, পুটি, রিটাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন করা নিষেধ করা হয়েছে। নদী এলাকায় সর্তক সম্মিলিত সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। এ বিষয়ে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। প্রতিটি এলাকায় সুবিধাভোগী নিয়ে একটি করে দেশীয় মাছ রক্ষায় কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে তেমন কাজে আসনি।