ট্রান্সজেন্ডারের অনুমতি দেওয়া দেশগুলোতে দত্তক দেওয়াও নিষিদ্ধ করল রাশিয়া

ট্রান্সজেন্ডার নিষিদ্ধের পর এবার যেসব দেশে লিঙ্গ পরিবর্তন পদ্ধতি অনুমোদন করা হয়, সেখানে শিশুদের দত্তক দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল রাশিয়া।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সই করা ডিক্রিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

ডিক্রি অনুযায়ী, যেসব দেশ অস্ত্রোপচার ও বয়ঃসন্ধিকালীন ব্লকারসহ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি দেয় অথবা কোনো ধরনের চিকিৎসা-হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি দেয়, তারা আর রুশ শিশুদের দত্তক নিতে পারবে না।

এ মাসের শুরুর দিকে রাষ্ট্রীয় দুমায় এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করা হয়। দুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন বলেছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হচ্ছে- রুশ শিশুদের সম্ভাব্য লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো বিপদ থেকে রক্ষা করা।

স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন শিশুদের প্রতি পশ্চিমা নীতিগুলোকে 'ধ্বংসাত্মক' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনটি তৈরি করা হচ্ছে। ২০২২ সালের আগস্টে রুশ আইনপ্রণেতারা ইউক্রেন সংঘাতের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী সব 'অবন্ধুত্বপূর্ণ দেশে' দত্তক দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করে। পুতিন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছিলেন, বিলটি যেভাবে খসড়া করা হয়েছে, এটি রাশিয়ায় বসবাসকারী ইউক্রেনীয়দের অধিকার লঙ্ঘন করবে।

এর আগে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়া লিঙ্গ পরিবর্তন পদ্ধতিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। রুশ আইনপ্রণেতারা লিঙ্গ পরিবর্তনকে 'হিজড়া শিল্প' বলে অভিহিত করেছিলেন। জন্মগত অস্বাভাবিকতার মতো গুরুতর চিকিত্সা মামলা ব্যতীত রূপান্তরের সাথে সম্পর্কিত চিকিত্সাও নিষিদ্ধ করা হয়।

আইনটি পাস হওয়ার পরপরই লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি দেয় এমন দেশগুলোর লোকদেরও 'দত্তক' দেওয়া বন্ধে প্রস্তাব করেছিলেন।

এরও আগে ২০১৩ সালে রাশিয়া সমকামী যুগলদের সন্তান দত্তক দেওয়া নিষিদ্ধ করে। ওই বছর পাস হওয়া 'দিমা ইয়াকোভলেভ আইন'-এর আওতায় দেশটি মার্কিন নাগরিকদের দত্তক দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল।