বেনাপোল থেকে গত দুইদিন ধরে দূরপাল্লার সব যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন সীমান্ত ঘেঁষা বাস টার্মিনাল বন্ধ ঘোষণা করে চার কিলোমিটার দূরে পৌর বাস টার্মিনাল চালু করেছে।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাতে দূরপাল্লার পরিবহনে আসা যাত্রীদের পৌর বাস টার্মিনালে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার যাত্রীবাহী সব পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা।
তাদের দাবি, যাত্রীদের সুবিধার্থে সীমান্ত ঘেঁষা বাস টার্মিনালে যাত্রী উঠানামার সুযোগ দিতে হবে। বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতফেরত যাত্রীদের ভারী ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে বন্দরে এসে পরিবহন না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তাদের ইজিবাইকে করে সদ্য চালু হওয়া চার কিলোমিটার দূরে পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে যশোর-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী স্বল্পপাল্লার লোকাল বাসে উঠে যশোর গিয়ে দূরপাল্লার বাস ধরতে হচ্ছে।
পৌর বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, স্থানীয় বাস ঐ টার্মিনালে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। এরপর ভারতগামী যাত্রীদের ব্যাগ নিয়ে ইজিবাইক ও ভ্যানে চড়ে বন্দরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে।
গ্রিন লাইন পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর একটি আন্তর্জাতিক রুট। যাত্রীদের চার কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়াটা অযৌক্তিক। কারণ, ভারতগামী যাত্রীদের কাছে টাকা পয়সা, পাসপোর্ট ও দামি জিনিসপত্র থাকে। ইজিবাইক ভ্যানে করে বন্দরে যাতায়াতের পথে কোনো অঘটন ঘটে তাহলে এর দায় দায়িত্ব কে নিবে। এজন্যে আমাদের দাবি, বন্দরে আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টার্মিনালের সামনে যাত্রী ওঠা-নামানোর সুযোগ দিতে হবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান বলেন, পরিবহন ধর্মঘট নিরসনের জন্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টা সুরাহার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ১ হাজার ১৫৫ জন ও ভারত থেকে দেশে ফিরেছে দুই হাজার ৩৩ জন। প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করছে। তিন মাস আগে ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতো। এসব যাত্রী বহনের জন্যে প্রতিদিন অন্তত ১০০টি দূরপাল্লার পরিবহন যাতায়াত করে।