নিয়ম লঙ্ঘন করে সিলেটের জৈন্তাপুরে লোকালয়ে পাথর ভাঙ্গার কারখানা (স্টোন ক্রাশার মিল) করায় তীব্র শব্দের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে অন্তত ২৫০টি পরিবার।
জানা যায়, উপজেলার আলুবাগান মোকামবাড়ী এলাকায় কয়েক বছর আগে মতিন স্টোন ক্রাশার মিল লিমিটেড নামে এ কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, পাথর ভাঙ্গার কারখানাটি গ্রামের কাছে হওয়ায় তীব্র শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ। এছাড়া পাথর ভাঙ্গার সময় পানি ব্যবহার না করায় শব্দের মাত্রা আরও বেশি হচ্ছে বলে জানায় তারা।
জানা গেছে, আলুবাগান, মোকামবাড়ী মহল্লার মাঝহাঁটি, দাউদাটিল্লা এলাকার প্রবেশ মুখে ডাবল প্লান্টের বড় ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আশেপাশে অন্তত ২৫০টি পরিবারের বসবাস। এছাড়া কারখানার ২০০ মিটারের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির রয়েছে। যেখানে শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিচ্ছে।
মোকামবাড়ী প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা রিংকু রানী পাল বলেন, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিচে হওয়ায় সবসময় ধুলোবালি পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
মোকামবাড়ী দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিত্য লাল বলেন, মতিন কনস্ট্রাকশনের মিলটি কোনো নিয়ম মানছে না। তারা প্রায় রাত দশটা পর্যন্ত পাথর ভাঙ্গার পর আবার ফেলুডার দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পাথর লোডিং করার ফলে পুরো এলাকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। এছাড়া কারখানার জায়গাটি নিয়েও এলাকায় বিতর্ক আছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া পাথর ভাঙ্গার নির্গত ধুলাবালিতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ শামীম আহমেদ জানান, ধুলায় বনের গাছপালা সাদা হয়ে গেছে। এমনকি ফল-ফসলের উৎপাদন কমে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মতিন কনস্ট্রাকশন ক্রাশার মিলের ম্যানেজার মাকসুদুর রহমান মালিক-কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া কারখানার মালিকের মোবাইল নাম্বার দিতেও অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, কারখানাটির বিষয়ে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।