মৌসুম শুরুর পর দুই মাস পার হলেও বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া। তবে সম্প্রতি প্রচার পাচ্ছে আগামী মাসের শুরু থেকে সেন্টমার্টিন যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ। ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে। টিকিট বিক্রয়কারীরা জাহাজ ছাড়ার সম্ভাব্য স্থান উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাটকে উল্লেখ করলেও তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ কোন পয়েন্ট থেকে ছেড়ে যাবে এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে গড়ে দেয়া সমন্বয় কমিটির সদস্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কমিটি এখনো বৈঠক করতে পারেনি। তাই কোন পয়েন্ট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা ঠিক করা হয়নি। কমিটি বৈঠক বসলে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সেন্টমার্টিনগামী এমভি বারো আউলিয়া জাহাজের পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ১ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিন দ্বীপে মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাবে। ইতোমধ্যে এক হাজার অগ্রিম টিকিট কিনেছেন ভ্রমণকারীরা। পর্যটকদের নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছোতে সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। আমরা ইনানী নৌবাহিনীর জেটি থেকেই জাহাজ ছাড়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
সেন্টমার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ বলেন, শুনেছি ১ ডিসেম্বর থেকে ইনানী জেটিঘাট দিয়ে কর্ণফুলী ও বারো আউলিয়া নামে দুটি জাহাজে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে আসবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে পর্যটক বরণে দ্বীপের হোটেল-রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য দোকানপাট সাজানো হচ্ছে।
ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে ইনানী থেকে দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ যাবার আশায় পর্যটকরা টিকিট সংগ্রহ করছেন। পরে, সাবরাং পয়েন্ট দিয়েও পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যেতে পারে। এব্যাপারেও প্রস্তুতি চলছে বলে শুনেছি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যটকবাহী কয়েকটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, কোন পয়েন্ট থেকে তা ছাড়বে সে সিদ্ধান্ত আসবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে করে দেয়া যৌথ কমিটির সভায়। তাই, ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাট দিয়ে জাহাজ যাবে কিনা তা এখনো পরিস্কার নয়।
সেন্টমার্টিনে যাওয়া পর্যটক ও অনুমোদিত জাহাজ নিয়ন্ত্রণে ২০ নভেম্বর যৌথ কমিটি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পর্যটকদের নিবন্ধনসহ নানা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে এবং তা দেখভাল করবে মন্ত্রণালয়ের গড়ে দেওয়া যৌথ কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের প্রতিনিধিরা।