রাজশাহীর বাঘায় বাক-প্রতিবন্ধী দিনমজুর আনিসুর রহমানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার আপন ভায়রা রায়হান আলী। হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আনিসুর রহমানকে গলা কেটে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। গত শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মনিগ্রামের বজলু মাষ্টারের আম বাগানে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রফিকুল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আনিসুর পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হিমসিম খাওয়ার এক পর্যায় একাধিক এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এরপর আধাপাকা একটি বাড়ি তৈরি করেন। আবার কিছু টাকা তার ভায়রাকে ধার দেন। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সরকারি ভাবে ভাতাও পেতেন। অতঃপর ধীরে ধীরে ঋণের কিস্তিও শোধ করছিলেন। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল তার।
রাজশাহীর জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চারঘাট-বাঘা সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, নিহত আনিসুর রহমানের স্ত্রী পারভিন বেগমের ছোট বোনের স্বামী রায়হান রডমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক সমস্যায় বিভিন্ন সময় আনিসুরের কাছ থেকে টাকা ধার করতেন। চার মাস আগে রায়হান ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’ নামের একটি এনজিও থেকে আনিসুর ও তার স্ত্রী পারভিন বেগমের নামে ৯০ হাজার টাকা ঋণ তোলেন। কারণ ওই এনজিওতে তিনি নিজের নামে আগে থেকেই ঋণ নিয়ে রেখেছিলেন। তাই দ্বিতীয় দফায় আনিসুরের মাধ্যমে ঋণের টাকা তোলেন।
এরপর কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে রায়হান চরম বিপাকে পড়েন। পরে লোকমুখে শুনতে পান, ঋণগ্রহীতা দুজনের মধ্যে কোনো একজন মারা গেলে পুরো টাকা মওকুফ হয়ে যায়। আর এরপরই রায়হান তার ভায়রা ভাই আনিসুরকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন।
সহকারী পুলিশ সুপার জানান, এর জন্য রায়হান বাজার থেকে ৫০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কেনেন। শুক্রবার ফোন করে ভায়রা ভাই আনিসুরকে মনিগ্রাম বাজারে ডাকেন টাকা দেওয়ার জন্য। কথামত বাজারে গেলে টাকা ধার দেওয়ার নাম করে রাতে আনিসুরকে বাজারের পাশের একটি আম বাগানে নিয়ে যান রায়হান। পরে কথা বলার এক ফাঁকে রায়হান পেছন দিক থেকে আনিসুরের গলায় ছুরি চালান। এতে আনিসুর ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আনিসুরের স্ত্রী পারভিন বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। আর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় রায়হানের কথায় গড়মিল পাওয়া গেলে তাকে আটক করা হয়। এরপর থানায় নেওয়া হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।