তালায় ব্রিজের কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা ঠিকাদার

দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ আছে। দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হলেও ১১ কোটি ৮০ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৮ টাকা বরাদ্দের ব্রিজটি নির্মাণের আর কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েও উত্তর পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কপোতাক্ষ নদের এক পাশে মাগুরা ইউনিয়ন ও অপর পাশে ইসলামকাটি ইউনিয়ন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই নদের ওপর নির্মিত একমাত্র বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এর আগে তারা খেয়া পারাপার হতো। যার কারণে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার। তাদের সেই দাবীর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ১১ কোটি ৮০ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৮ টাকা বরাদ্দ দেয়।

তালা এলজিইিডি অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনার জেড টি নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণের কাজ পায়। তারা সঠিক সময়ে কাজটি শুরুও করে। কিন্তু পিলার নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ করতে করতে হঠাৎ তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজ নির্মাণের আর কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, নদের দু’পারে অসম্পন্ন দুটি পিলার নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। আর নদের নিচে কিছু বাঁশ খুঁটি পুঁতা হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন জিনিসপত্র।

স্থানীয়রা জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবীর মুখে বিগত সরকার এখানে একটি ব্রিজ করার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী ঢাকঢোল পিটিয়ে কাজও শুরু করা হয়। অনেক আশা ছিলো, ব্রিজটি নির্মাণ হলে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরে আসবে। কিন্তু কাজ ফেলে মাঝপথে ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। 

বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় সুজনসাহা গ্রামের নিছার আলী বলেন, এই যুগেও যদি এতো বড় নদী সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় তাহলে কত পিছিয়ে রয়েছি আমরা। বরাবরই এ অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। তবে এ বিষয়ে জানতে বার বার চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তালা উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, মাগুরার এই ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ধীর গতির কারণে তাকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে অবশেষে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। তিনি যদি কাজ না করেন তাহলে নতুন করে টেন্ডার আহবান করা হবে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, ব্রিজটি যেভাবে অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে সেটা আমি নিজ চোখে দেখেছি। এলজিইডি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে এখানে জেনো দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন হয় আমি তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।