g সত্যজিত্ বিশ্বাস
বিশ্বকাপ ফাইনাল সমাচার
প্রথম বন্ধু :বল তো, এবার কারা ফাইনাল খেলবে?
দ্বিতীয় বন্ধু :যে দুইটা দল সেমি ফাইনালে জিতবে।
প্রথম বন্ধু :তাহলে চ্যাম্পিয়ান হবে কোন দল?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, যে দল ফাইনালে বিপক্ষ দলের চেয়ে বেশি রান করবে।
প্রথম বন্ধু :আরে এগুলো তো একটা গাধাও জানে, তুই কী জানিস?
দ্বিতীয় বন্ধু :এগুলো জেনেও প্রশ্ন করে, এমন এক গাধাকে জানি।
এ লজ্জা কার
প্রাইভেট গাড়ি :মাত্র দুই/একজন যাত্রী নিয়ে রাস্তায় জ্যাম বাঁধাস, লজ্জা করে না?
রিকশা :ওস্তাদ, ওই একই কারণে আপনারও কি লজ্জা করে না?
কত বড় মিথ্যা!
সাংবাদিক :‘রেলে নাকি সব আছে, শৃঙ্খলা নেই’—কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন ব্যাপারটা?
রেল কর্তৃপক্ষ :সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট কথা।
সাংবাদিক :কী বলেন, এ ব্যাপারে ঢালাও অভিযোগ আছে আপনাদের ওপর।
রেল কর্তৃপক্ষ :আরে রাখেন আপনার অভিযোগ। এটা কত বড় মিথ্যা কথা, নিজে বুঝতে পারছেন না?
সাংবাদিক :জি না, পারছি না।
রেল কর্তৃপক্ষ :আপনিই বলেন, ট্রেন চলাচল কি বন্ধ সারা দেশে?
সাংবাদিক :না। তো, এতে কী প্রমাণ হলো?
রেল কর্তৃপক্ষ :রেলের ইঞ্জিন, ১৪/১৫টা বগি, শুধু তাই না রেল লাইন, লাইনের পাত, নাট বল্টু, ক্লিপ, ফিসপ্লেট সব শৃঙ্খলাবদ্ধ না থাকলে ট্রেন চলে কী করে শুনি?
বোঝাবুঝি
প্রথম বন্ধু :এবারের বিশ্বকাপ মনে হয় ইন্ডিয়া নেবে। তোর কী মনে হয়?
দ্বিতীয় বন্ধু :আরে নাহ, এবারের বিশ্বকাপ নেবে ইংল্যান্ড।
প্রথম বন্ধু :তুই কী করে বুঝলি?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, তুই যেভাবে বুঝলি।
মনের ডাক
প্রথম বন্ধু :আমার মনে বলছে এবার বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া নেবে।
দ্বিতীয় বন্ধু :আরে নাহ, আমার মনে হয় এবারের বিশ্বকাপ নেবে ইংল্যান্ড।
তৃতীয় বন্ধু :আরে ধুর, আমার মনে ডাক দিছে, দেখিস বিশ্বকাপ এবার ভারত নেবে।
চতুর্থ বন্ধু কিছু বলছে না দেখে, বাকি তিনজন তাকে চেপে ধরল, ‘কীরে, তুই যে কিছু বলছিস না?’
চতুর্থ বন্ধু :তোগো মনের ডাকাডাকি শুনি।
স্বপ্নে সবই সম্ভব
প্রথম বন্ধু :এবারের বিশ্বকাপ মনে হয় নিউজিল্যান্ড নেবে।
দ্বিতীয় বন্ধু :তোরে কে কইল শুনি?
প্রথম বন্ধু :কেউ কয় নাই, স্বপ্নে দেখছি।
দ্বিতীয় বন্ধু :তাইলে হইতে পারে। স্বপ্নে তো আফগানিস্তানও কাপ নেয়।
অফার কী সবার জন্য এক?
নেতা :ভাইসব, রাস্তায় এত জ্যাম কেন জানেন? এই রিকশার কারণে। আপনারা আরাম বর্জন করে একটু কস্ট করে যদি বাসে যাতায়াত করেন, তাহলে রাস্তায় জ্যাম কমে যাবে।
পেছন থেকে একজন :যদি সাহস থাকে, এই অফারটা প্রাইভেট কার ব্যবহারকারীদের করে দেখান তো দেখি?
আমাগো যা আছে, তোগো কী তা আছে?
রিকশা :বড় ভাই, একটা কথা জিগাই? রাগ হইয়া যাইবেন না তো?
প্রাইভেট কার :কী কথা?
রিকশা :আমি ২/৩ জন যাত্রী নিতে পারি, আপনিও তাই।
প্রাইভেট কার :কথা ঠিক।
রিকশা :আমার স্বাস্থ্যের থেইক্কা আপনার স্বাস্থ্য দুই ডাবল।
প্রাইভেট কার :তাও ঠিক।
রিকশা :আপনে রাস্তায় নামলে তেল, গ্যাস পোড়াইয়া পরিবেশের বারোটা বাজান, আমরা বাজাই না।
প্রাইভেট কার :ওই, তুই কী কইতে চাস?
রিকশা :না মানে কইতে চাইলাম, এত কিছুর পরেও আপনাগো না কইয়া রাস্তায় নামতে আমাগো নিষেধ দেয় কেন?
প্রাইভেট কার :ওই বেটা ফকিন্নি, আমাগো যা আছে তোগো কী তা আছে?
রিকশা :কী নাই, বড় ভাই?
প্রাইভেট কার :ক্ষমতা।
পার্থক্য কোথায়?
মানুষের ইঞ্জিন আর রেলের ইঞ্জিনের পার্থক্য কোথায়?
ব্যবহারে। মানুষের ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর ব্যবহার করা যায় না। রেলের ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তার মুক্তি নেই।
আশ্চর্য, চরম আশ্চর্য!
প্রথম বন্ধু :বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রেলওয়ে বিপুল বেগে ছুটতে পারছে না, আশ্চর্য লাগছে না!
দ্বিতীয় বন্ধু :মোটেও লাগছে না।
প্রথম বন্ধু :কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :২৭২টা ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯৫টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে এখনো যে ছুটছে, এটাই কি চরম আশ্চর্যের না?
নিরাপদ বাহন
টিভি টক শো উপস্থাপক :আপনারা কী বলতে চান, রেল নিরাপদ বাহন?
রেল কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা :অবশ্যই নিরাপদ বাহন।
উপস্থাপক :রেলের হিসেবে, গত ৫ বছরে ৮৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। কী, ব্যাখ্যা দেবেন এর?
কর্মকর্তা :এতগুলো দুর্ঘটনায় কতজন প্রাণ হারিয়েছেন জানেন? মাত্র ১১১ জন। প্লেন দুর্ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম, লঞ্চ অথবা বাস দুর্ঘটনায় কী এর থেকে অনেক বেশি প্রাণ হারায় না?
উপস্থাপক :তা ঠিক, তবে...
কর্মকর্তা :তবে আপনিই বলুন, এর থেকে নিরাপদ বাহন আর কী আছে?
উপস্থাপক :আচ্ছা, উন্নত বিশ্বের কথা না হয় বাদই দিলাম, আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের ট্রেনের গতি সব থেকে কম। এ ব্যাপারে কী বলবেন?
কর্মকর্তা :এইমাত্র না নিরাপদ বাহনের কথা বললেন? নিরাপদে যেতে চাইলে আস্তে চলার বিকল্প কী, শুনি?
আমার মামা সব জানে
মামা :আমরা যে দিন দিন বড়লোক হয়ে যাচ্ছি, টের পাচ্ছিস?
ভাগ্নে :কিভাবে?
মামা :এই যে দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। তার ওপর গ্যাসের দাম বেড়েছে, এখন শুনছি বিদ্যুতের দামও নাকি বাড়বে।
ভাগ্নে :তো, আমরা বড়লোক হলাম কী করে?
মামা :কেন, দাম বাড়লে কী আমরা এসব ব্যবহার করব না?
ভাগ্নে :তা করব।
মামা :বড়লোক না হলে আমরা এসব ব্যবহার করব কী করে শুনি?
বন্ধন
প্রথম বন্ধু :বিআরটিএ নিবন্ধন ছাড়াই চট্টগ্রামের রাস্তায় ২ লাখ যানবাহন চলছে, এটা কী করে সম্ভব?
দ্বিতীয় বন্ধু :অন্য কোনো শক্তিশালী (পরকীয়া) বন্ধনে নিবন্ধিত মনে হয়।
মানুষ এত অল্পে অধৈর্য কেন, আশ্চর্য
সাংবাদিক :‘২২ বছরেও নির্মাণ হয়নি নিউ ডিএনসিসি মার্কেট’ শুনে অবাক লাগছে না?
মার্কেট কর্তৃপক্ষ :অবশ্যই লাগছে।
সাংবাদিক :কী জন্য লাগছে, যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন।
কর্তৃপক্ষ :মানুষ এত অল্পে অধৈর্য কেন, আশ্চর্য!
g কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন