ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের অধিকাংশ রুমে শিক্ষার্থীদের শোয়ার জন্য নেই বেড। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদেরএখনো ফ্লোরিং করে ঘুমাতে হচ্ছে। হলের বেড সংকট দ্রুত সমাধান করতে করতে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক জাকির হোসেন ভূইয়াকে স্মারকলিপি দিয়েছেন হল শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রদলের নেতারা ৭ দিনের মধ্যে এ সমস্যার দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। হল প্রভোস্ট দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাস্টারদা সূর্যসেন হল এর আবাসিক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম বেড সংকটে ভুগছে। এই সংকটের শিকড় বিগত সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অপব্যবহারের নীতি থেকে উদ্ভূত। অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসন আমলে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে গণরুম ও কৃত্রিম বেড সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল। গণরুম ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও হলের শিক্ষার্থীরা বেড সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বেডের অভাবে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বাধ্য হয়ে ফ্লোরে ঘুমাচ্ছে, যা কেবল অসহনীয় নয় বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও বলা হয়, ফ্লোরে ঘুমানোর কারণে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় শিক্ষার্থীরা সর্দি, জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও পিঠের ব্যথার মতো গুরুতর সমস্যায় ভুগছে এবং সামনে আরো ভুগবে। ধুলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ত্বকের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে। ঠাণ্ডা মেঝেতে দীর্ঘ সময় শোয়ার ফলে মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। শীত মৌসুমে ফ্লোর এত ঠাণ্ডা হয়ে যায় যে, কোনো কম্বল বা শীতবস্ত্র দিয়েও তা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রতিদিনের অস্বাস্থ্যকর ঘুমের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা, ক্লান্তি এবং একাডেমিক মনোযোগে মারাত্মক ঘাটতি সৃষ্টি করছে।
স্বারকলিপি প্রদানকালে ছিলেন হল শাখা ছাত্রদলের ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবিদুর রহমান মিশু, অর্থ সম্পাদক শিপন মিয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সামিউল আমীন গালিব। এছাড়াও মিলন হোসেন,জাহিদুল ইসলাম পান্থ, আমিনুল ইসলাম অভি, সিদরাতুল মুনতাহা আলিফ, মেজর, নাজিম, আলমগীর, এনামুল ও ইব্রাহিম ছিলেন।