পাওনা পরিশোধ না করায় এনটিসির ১৯ চা-বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি

প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় থেকে ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসির) ১৯টি বাগানে কর্মবিরতি চলছে। ১৫ হাজার চা-শ্রমিকের পরিবারের অন্তত: ৫০ হাজার লোক অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন, এনটিসি ও ডেপুটি ডাইরেক্টর লেবার শ্রীমঙ্গল-ত্রিপক্ষীয়  বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তের দুদিন পার হলেও শ্রমিকরা  কাজে যোগ দেননি। সিলেট ভ্যালি চা-সংসদ কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালা শনিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘শ্রমিকরা পাওনার আশায় বুক বেঁধে ছিল । কিন্তু তাদেরকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।  এতে চা- শ্রমিক, মালিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার পদক্ষেপ নিলে সংকটের সমাধান সম্ভব। মূলত: টাকার সংকট।    

এদিকে সিলেট লাক্কাতুরার চা-শ্রমিক সরস্বতী লোহার বলেন, ‘এক দিন খাই-এক দিন না খেয়ে ঘুমাই। বড়ই কষ্টে আছি।’ এনটিসির বাগানে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও ১৩ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) চাঁদা তহবিলে জমা না দেওয়ার প্রতিবাদে গত ২০ অক্টোবর থেকে ১৯টি বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে বাগানে, ফ্যাক্টরিতে ও গুদামে ‘পাতি’ নষ্ট হচ্ছে । সংশ্লিষ্টরা জানালেন, এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহমুদ হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তহবিল না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া  দেশের সব কয়টি বেসরকারি চা-বাগানেও চরম অর্থসংকট চলছে। এর অন্যতম কারণ চায়ের উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ২২৫-২৫০ টাকা। নিলাম বাজারে সেটি ১৬০ টাকা। বাগানমালিকরা মনে করেন, চায়ের নিলাম মূল্য নিম্নতম ৩০০ টাকা কেজি নির্ধারণ, ব্যাংক ঋণের সুবিধা ও সুদহার হ্রাস করলে আপাতত সংকট উত্তরণ হতে পারে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের নর্থ সিলেট ভ্যালির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নোমান হায়দার চৌধূরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘চা-শিল্পের এমন সংকট জীবনেও দেখিনি। তাই বাগান রক্ষা করা মুশকিল।’

সূত্র মতে, ‘কিছু বাগান চা-‘ব্লান্ডিং’-এর মাধ্যমে প্যাকেটজাত করে। মোটা পুঁজি বিনিয়োগ করে টিকে আছে।’ বাগান সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘ব্যাংক ঋণে সুদের হার ৯ ভাগ থেকে সাড়ে ১৪ ভাগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সমস্যা, চোরাই পথে নিম্ন মানের চা আগমন, সর্বোপরি  ব্রোকার্সদের সিন্ডিকেট দেশের চা-শিল্পটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, ‘এখুনি সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। চা-শিল্পকে রক্ষা করতে হবে।’