রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটাকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার।
সমাবেশে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘জনে জনে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘জোহা স্যারের স্মরণে, ভয় করি না মরণে’, ‘ছাত্রসমাজের অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছি। পোষ্য কোটাও একটি অযৌক্তিক কোটা। এটা নিয়ে টালবাহনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পতন ঘটাতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৩ সালে তৎকালীন উপাচার্যের ছেলেকে ৩৭ মার্কেও (নম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ন্যূনতম মার্ক ছিল ৪০। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে ২২, ২৫, ২৮, ৩২ এবং ৪০ মার্ক পায়নি, এমন শিক্ষার্থীদের কোটায় ভর্তি করা হয়েছে। পরে এই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হয়। এটা সম্ভব হয়েছে তেল দিয়ে। যারা পরীক্ষায় চান্স পায় না, পরে এদেরকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমি চাই না বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা থাকুক।’
এর আগে, গত ১৪ নভেম্বর রাবির ভর্তি পরীক্ষায় তিন শতাংশ পোষ্য কোটা রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেদিন রাতেই এই কোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তারা। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে সভাপতি করে ২০ সদস্যের কোটা পর্যালোচনা কমিটি গঠিত হয়। তবে এ কমিটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কার্যকরী কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়ার পরও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না আসায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন শিক্ষার্থীরা।