প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হল।
সমকাল
কর্মকর্তাদের কারসাজিতে পেঁয়াজ চাষে সর্বনাশ
বিনামূল্যে ৫৯টি জেলায় ৩৪ টন পেঁয়াজের বীজ দিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি)। প্রণোদনার এই বীজ সঠিক নিয়মে বপন করার পরও ৯৫ শতাংশ পেঁয়াজ চারা মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি। তাতে হাজার হাজার চাষির স্বপ্ন মাঠে মারা।
এমন পরিস্থিতির জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরই দুষছে কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, যে পেঁয়াজ বীজ দেয়া হয়েছিল, তা ভেজাল। অসাধু কর্মকর্তার কারসাজিতেই এমন সর্বনাশ হয়েছে। একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নিম্নমানের ভেজাল বীজ কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তারা প্রণোদনার নামে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কৃষক এভাবেই ঠকবেন। এমন কাণ্ডে নির্দিষ্ট সময়ে হালি পেঁয়াজ বাজারে আসবে না। সেই সাথে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ না হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগ আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রণোদনার পেঁয়াজের বীজে ভেজাল ছিল, তা ইতোমধ্যে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ইত্তেফাক
পরিবর্তন মেনেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে, বার্তা দেবে ঢাকা
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে আজ সোমবার ঢাকায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিবরা। বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাস্তবতা মেনে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নির্ধারিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠকে যোগ দিতে আজই ঢাকায় আসছেন বিক্রম মিশ্রি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার এটিই প্রথম ঢাকা সফর।
এফওসিতে দুই দেশের মধ্যে প্রধান প্রধান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এ বৈঠকটি এমন একসময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মীয় একজন নেতার গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত, সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও তুলেছে, আবার কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।
মূলত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তাতে এই বৈঠকে কী আলোচনা হবে এবং কোন দিকে পরিস্থিতি মোড় নেবে তা নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ রয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক থেকে বড় কিছু অর্জনের সুযোগ না থাকলেও, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুই দেশ বৈঠক বা আলোচনায় বসেছে—এটাই হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
প্রথম আলো
১২ দিনের 'ঝড়ে' বাশারের পতন, মস্কোয় আশ্রয়
বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ঝোড়ো অভিযানের মাত্র ১২ দিনের মাথায় বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক এখন বাশারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে। দামেস্ক শহরের একটি মসজিদে দেওয়া ভাষণে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রধান নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি বলেছেন, 'এই বিজয় সিরিয়ার সব মানুষের।'
এর আগে এক বিবৃতিতে জোলানি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগপর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্বে থাকবেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি। ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় ক্ষমতায় ছিলেন বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদ। বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতার মসনদে বসেন বাশার। প্রথমে সংস্কারের পথ ধরে এগোলেও পরে বাবার মতোই কর্তৃত্ববাদী শাসকে পরিণত হন।
সরকার পতনের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাশার মস্কোয় গেছেন। সেখানে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাশারের পতন মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে, এমনটা বলা হচ্ছে। সিরিয়া প্রসঙ্গে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া কিংবা ইরানের হেজবুল্লাহ—কেউই সিরিয়া সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। বাশারের পতনের পর এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চয়তার এক মুহূর্ত বিরাজ করছে। সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবে তার দেশ।
এদিকে, সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে রাশিয়া।
আজকের পত্রিকা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সব ভোট চান জনপ্রতিনিধিরা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা। এজন্য দরকার হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন তারা।
গতকাল রোববার নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। তখন তারা এসব দাবি জানান। বৈঠকটিতে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের ২০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে করার দাবিও জানিয়েছেন। তাদের অনেকে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবিও করেন।
নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা, আগের সরকারের আমলের কেউ যেন পুনর্বহাল না হয়, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে ভোট, মেয়রের ক্ষমতা কমানোর জন্য প্যানেল থেকে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে স্বাক্ষরের ক্ষমতা দেয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতায়িত করাসহ বৈঠকে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে। জনপ্রতিনিধিদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে প্রস্তাব এলেও এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেন প্রতিনিধিরা।
মানবজমিন
কী বার্তা নিয়ে আসছেন দিল্লির বিদেশ সচিব
পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সফরটির বিষয়ে খানিকটা গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি রয়েছে দুই দেশের। ঢাকার তরফ থেকে তা মানার চেষ্টা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, 'তিক্ততা'র এই সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফর একটি 'ইতিবাচক বার্তা'। কারণ, ৫ই অগাস্টের পর এটাই ভারতের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধির প্রথম বাংলাদেশ সফর।
বিক্রম মিশ্রির এ সফর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা কেটে যায়। গত শুক্রবার দিল্লি থেকে ফের নিশ্চিত করা হয়, তিনি আসছেন। সোমবার সকালে এসে রাতে ফিরে যাবেন তিনি।
কালের কণ্ঠ
শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরও বাংলাদেশ নিয়ে ভারত তাদের অবস্থান বদলায়নি, তাই বিস্মিত হয়েছে বিএনপি। দেশটি থেকে দেয়া বক্তব্য-বিবৃতি বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ফলে ভারত বিরোধী অবস্থান জোরালো হয়েছে দলটির মধ্যে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি দিয়েছে তারা।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য,বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ভারত। এমনকি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা-নির্যাতনের তেমন কোনো ঘটনা না ঘটলেও বিশ্বে তা ভিন্নভাবে প্রচার করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। দেশটির সরকারের বক্তব্য-বিবৃতিও উসকানিমূলক বলে মনে করছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করে স্মারকলিপি দিয়েছে দলটির তিন সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। আগামী ১১ ডিসেম্বর ভারতের আগরতলা অভিমুখে লং মার্চ করবে তারা।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, তবে তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকবে। আজ ঢাকায় আসতে যাওয়া দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিকে বার্তা দিতেই পদযাত্রা কর্মসূচি করেছে। ভারতের বর্তমান অবস্থানকে 'একচোখা' নীতিও বলছেন বিএনপি নেতারা।
বণিক বার্তা
বছরে অনুমোদন ২০-২২ হাজার, প্রকৃত সংখ্যা কেউ জানে না
দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশিদের কাজের অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি দেখভালকারী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশে বিদেশিকর্মীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও এ নিয়ে প্রকৃত তথ্য নেই কারও কাছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়নি, এমনটা জানা গেছে বিডা সূত্রে। এদিকে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছে সরকার। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
বিডার তথ্য মতে, বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা নেই। কারিগরিভাবে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও ব্যবস্থাপকের প্রয়োজনে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। আর ইপিজেডের বাইরে স্থাপিত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজ করতে গেলে বিদেশিদের বিডার অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন পড়ে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২০ সালে করা এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে, যার মধ্যে ভারত ও শ্রীলংকার নাগরিকই বেশি।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের বরাতে চলতি বছরের শুরুতে সরকার থেকে বলা হয়েছিল, গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানরত বৈধ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭। তাদের বেশিরভাগই ভারত ও চীনের নাগরিক। আর অবৈধ বিদেশির সংখ্যা আনুমানিক চার-পাঁচ লাখ হতে পারে।
বিডা সূত্র জানায়, সমন্বিত কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় বিজনেস ভিসা (বি-ভিসা) ও টুরিস্ট ভিসায় (টি-ভিসা) আসা বিদেশিরা কাজের অনুমতি না থাকলেও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেশে অবস্থান করতে পারার সুযোগ নিচ্ছেন।