কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মহিষ চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে আটক সন্দেহভাজন দুই চোর গণপিটুনিতে নিহত হয়।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের দেওঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অষ্টগ্রাম উপজেলার কাগজী গ্রামের হিরা মিয়ার ছেলে নাসির মিয়া (২৮) ও পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান (৪০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর রাতে পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রাম থেকে একটি মহিষ চুরি করে নৌকায় পালিয়ে যাচ্ছিলেন দুই চোর। টের পেয়ে কয়েকজন গ্রামবাসী দেওঘর গ্রাম সংলগ্ন ডুড্ডা নদীতে নৌকা থামিয়ে তাদের আটক করে। পরে দুজনকেই দেওঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে। ইতিমধ্যে খবরটি সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই কয়েক শত শত গ্রামবাসী বিদ্যালয়ের গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দুই চোরকে বিদ্যালয়ের মাঠে এনে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির ফলে দুজনেই ঘটনাস্থলে মারা যান।
খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে স্থানীয় ক্যাম্পের সেনা সদস্য ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দেওঘর ১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখের বাড়ির পেছনে তাদের স্থানীয় জনতা আটক করে। পরে দেওঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে এলে গণপিটুনিতে নিহত হন। গণপিটুনিতে নিহত দুজনের বিরুদ্ধেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানায় একাধিক চুরি মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চুরি করা মহিষটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যে নৌকাটি চুরির কাজে ব্যবহার হয়েছিল তা চিহ্নিত করা যায়নি।