খাবারের খোঁজে লোকালয়ে নেমে ভেংচি কাটছে হনুমান

দলছুট হয়ে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে নেমে এসেছে একটি মুখপোড়া হনুমান। তবে খাবার না দিয়ে কেউ তাকে অযথা বিরক্ত করলে ভেংচি কাটছে, হুংকার করে ভয় দেখাচ্ছে মানুষকে! সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফুলবাড়ী পৌরশহরের উপজেলা পরিষদ রোডের চকচকা এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র। দলছুট ওই হনুমানটিকে দেখতে ভিড় জমিয়েছে উৎসুক জনতা। 

হনুমানটি প্রথমবার দেখতে পাওয়া পুলক গুপ্ত, অংকুর গুপ্ত ও দেব গুপ্ত বলেন, সোমবার দুপুরে আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে হানুমানটিকে। ভয়ে প্রথমে কেউ কাছে যাচ্ছিলাম না। কিন্তু পরে খাবার নিয়ে গেলে সে শান্ত মনে হাত থেকে নিয়ে খাবার খেয়েছে। পানি দিয়েছি, তাও খেয়েছে। একে দেখতে অনেক মানুষজন ভিড় জমিয়েছে।

অযথা বিরক্ত করলে ভেংচি কেটে ও হুংকার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে মানুষকে। ছবি: ইত্তেফাক

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী ও প্রভাষক রীতা রানী কানুর বাড়ির সীমানা প্রাচীরে প্রথমে হনুমানটিকে দেখা গেছে। হনুমানটিকে দেখে প্রথমে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দূর থেকে গাজর, কলা, রুটি, বিস্কুটসহ নানা রকম খাবার দেওয়ার পরে সেগুলো খেতে শুরু করে দলছুট এই প্রাণী। তবে খাবার না দিয়ে কেউ তাকে অযথা বিরক্ত করলে কিংবা হুংকার করে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে হনুমানটি। 

দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানকে এলাকাবাসী যেন কোনো ক্ষতি বা বিরক্ত না করেন, সে বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার। কিছুদিন পর আবার সে তার এলাকায় ফিরে যাবে। যদি লোকালয়ে হনুমানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে বানরটিকে ধরে বনাঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

—আব্দুল হাই, মধ্যপাড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা। 

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের মেলাবাড়ী এবং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লালপুরে হনুমানটিকে দেখা গেছে। এ অবস্থায় হনুমানটি সংরক্ষণে বনবিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে হনুমানটিকে অযথা বিরক্ত না করার পরামর্শ দিয়েছেন  বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। দ্রুত সেটিকে বনাঞ্চলে  ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এ বিভাগের কর্মকর্তারা। 

মধ্যপাড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানকে এলাকাবাসী যেন কোনো ক্ষতি বা বিরক্ত না করেন, সে বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার। কিছুদিন পর আবার সে তার এলাকায় ফিরে যাবে। যদি লোকালয়ে হনুমানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে বানরটিকে ধরে বনাঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।