রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যার ঘটনা কীভাবে কারা সংঘটিত করেছে, সে বিষয়ে জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রেস অফিস জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী উজবেক নাগরিককে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়োগ দিয়েছিল। তাকে এক লাখ ডলার পুরস্কার ও ইইউভুক্ত কোনো দেশে ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তদন্ত কমিটির সহযোগিতায় এফএসবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ওই উজবেক নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে মস্কোয় এক বিস্ফোরণে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ এবং ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণকারী সহকারী মেজর পোলিকারপভ প্রাণ হারান। গুপ্তহত্যার দায়ও স্বীকার করেছে ইউক্রেন।
এফএসবি জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা এই সন্ত্রাসীকে নিয়োগ দিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তাদের আদেশেই তাকে মস্কোতে পাঠানো হয়। তিনি কিরিলভের বাসভবনের প্রবেশদ্বারের কাছে পার্ক করে রাখা বৈদ্যুতিক স্কুটারে একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস রেখেছিলেন।
রুশ গোয়ান্দা সংস্থা আরও জানিয়েছে, সন্ত্রাসী পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি গাড়িও ভাড়া করেছিলেন। একটি ওয়াই-ফাই ভিডিও ক্যামেরা ইনস্টল করে তিনি আয়োজকদের (ইউক্রেনের গোয়েন্দা বাহিনী) কাছে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করেন।
একটি ভিডিওতে কর্মকর্তাদের ভবন ত্যাগ করতে দেখা গেছে। বিস্ফোরক ডিভাইসটি দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এফএসবির প্রেস অফিস বলেছে, এসব অপরাধের জন্য তার সম্ভাব্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সন্ত্রাসী হামলা সংগঠিত করার সঙ্গে জড়িত ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদেরও সনাক্ত করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।