সিরিয়ার গোপন কারাগার থেকে মুক্তির ‘ভাইরাল গল্প’ কি বানোয়াট?

বিদ্রোহীদের হাতে আসাদের পতনের পর সিএনএন একটি ‘নাটকীয়’ ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন সংবাদ চ্যানেলটির একজন সাংবাদিক সিরিয়ার কারাগার থেকে এক ব্যক্তিকে ‘মুক্ত করে দিচ্ছেন’। বন্দি লোকটি নিজেকে ‘সাধারণ বেসামরিক’ লোক বলে দাবি করছেন। এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তথ্যের ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। নতুন করে প্রমাণ পাওয়া গেছে, ওই ব্যক্তি সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করেতেন।

বিদ্রোহীদের হাতে আসাদের পতনের সিএনএন বন্দি মুক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন তিনি। চাঁদাবাজির অর্থ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। পরে তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ভিডিওতে দেখা গেছে, সিএনএন-এর প্রতিবেদক ক্লারিসা ওয়ার্ড বাশারকে উৎখাত করার পর নিখোঁজ মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের সন্ধানে দামেস্কের একটি ‘গোপন কারাগারে’ প্রবেশ করছেন।

ক্লারিসা একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে নিয়ে কারাগারের ভেতরে হাঁটছেন। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যাচ্ছেন। খুঁজতে খুঁজতে একটি রুমে কম্বলে মোড়ানো এক ব্যক্তিকে পেয়ে যান। পরে দেখা যায়, তিনি সাংবাদিককে মুক্তির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং তার হাতে চুম্বন করছেন।

বিদ্রোহীদের হাতে আসাদের পতনের সিএনএন বন্দি মুক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে সিরিয়ার হোমস শহরের ‘আদেল ঘুরবাল’ বলে পরিচয় দেন ওই ব্যক্তি। তিনি আসাদ সরকারের শিকার সাধারণ নাগরিক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ৩ মাস বিভিন্ন কারাগারে কাটিয়েছেন। আসাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল।

তবে সিরিয়ার মিডিয়ার তথ্য যাচাইয়ের প্লাটফর্ম ‘ভেরিফাই-সি’ জানিয়েছে, আদেল ঘুরবালের আসল নাম সালামা মোহাম্মদ সালামা। তিনি আবু হামজা নামেও পরিচিত। তিনি আসাদ সরকারের বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ছিলেন।

ভেরিফাই-সি বলছে, লোকটি বেশ কয়েকটি সুরক্ষা চৌকি পরিচালনা করেন। তিনি চাঁদাবাজি এবং বাসিন্দাদের তথ্যদাতা হতে বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদেরও হত্যায় অংশ নেন। বিনা কারণে বা বানোয়াট অভিযোগে শহরের অসংখ্য যুবককে আটক ও নির্যাতনের জন্য দায়ী ছিলেন।

বিদ্রোহীদের হাতে আসাদের পতনের সিএনএন বন্দি মুক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ছবি: সংগৃহীত

তবে সালামাকে এসব অপরাধের জন্য আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে ভেরিফাই-সি। সংস্থাটি সূত্রের বরাতে বলেছে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে চাঁদাবাজির তহবিল থেকে মুনাফা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের কারণে আটক করা হয়েছিল তাকে। সালামা যে সিরীয় বাহিনীর লোক ছিলেন, তার প্রমাণস্বরূপ সামরিক ইউনিফর্ম পরা ছবিও শেয়ার করা হয়েছে।

তাই প্রশ্ন ওঠে সিএনএন যেভাবে ঘটনা উপস্থাপন করেছে, তা আসলেই কি সঠিক? কেননা ওই বন্দি দাবি করেছেন, তিনি বাশার আল-আসাদের শাসনামলে কারারুদ্ধ একজন 'সাধারণ নাগরিক'।

যদিও পরে এক প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে সিএনএন বলেছে, হামলাকারী ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সালামা মোহাম্মদ সালামা ছিলেন।