বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যাকাণ্ড

ব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্যই সীমান্তকে ছুরিকাঘাত

নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ছিনতাইকারী অনিক ও আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলীর আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান আদালতে দুই ছিনতাইকারীর স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্বীকারোক্তিতে অনিক বলেছে, গত ১২ ডিসেম্বর ভোরে নগরের দেওভোগ মরগান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল মো. অনিক, আকাশসহ তিন জন। ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার জন্য ঐ পথে যাচ্ছিল ওয়াজেদ আলম সীমান্ত।

বুধবার রাতে আটক হওয়া ছিনতাইকারী আকাশ।

অনিক আরও জানায়, সীমান্তকে দেখেই তারা তিন জন সীমান্তর ব্যাগ ও মোবাইল ফোনের জন্য পথরোধ করে। সীমান্ত তাতে বাধা দিলে অনিকসহ ৩ ছিনতাইকারী তাকে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। জবানবন্দিতে একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছে আকাশ।

সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জামাল উদ্দিন, ঘটনার ৬ দিন পর গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ছিনতাইকারী অনিককে দেওভোগ থেকে এবং বুধবার গভীর রাতে পাশের এলাকা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, অনিকের কাছ থেকে নিহত সীমান্তের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু জব্দ করা হয়। তবে আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার বা জব্দ করা যায়নি। ঘটনায় জড়িত অপর ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬ টায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবার পথে নগরের দেওভোগ এলাকায় মরগান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। বাধা দেওয়ায় ছিনতাইকারীরা সীমান্তকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীমান্ত মারা যায়। সীমান্ত নগরের দেওভোগ এলাকার হাজী আলমের ছেলে।