সিরাজগঞ্জে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু রোগী

উত্তরের জনপদ সিরাজগঞ্জে শীতের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। গত কয়েক দিনে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। এতে চিন্তিত অভিভাবকরা। আর চিকিৎসকেরা বলছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

ঠান্ডাজনিত কারণে গত কয়েক দিনেই সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ২৭০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে বাবা-মায়েরা। এদিকে শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-পুরুষরাও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগীর চাপ।

হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর পিতা আব্দুল বাছেত জানান, হঠাৎ করে ঠান্ডা বেশি পড়ায় তার বাচ্চার শ্বাস কষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখন আগের থেকে কিছুটা সুস্থ মনে হচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আরেক শিশুর অভিভাবক রুবেল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত শীতের কারণে তার সন্তানের নিউমোনিয়া হয়েছে। সেজন্য ছুটে এসেছেন সদর হাসপাতালে। এখানে ঠান্ডাজনিত কারণে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অনেক।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ন করছি। আর চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের অভিভাবকসহ সকলকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ মেডিনোভা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আকরামুজ্জামান বলেন, শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলায় শীত জনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে শিশু সহ বিভিন্ন বয়সী রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুর নাহার মনি জানান, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ঠান্ডা রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। তিনি এব্যাপারে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওনোর পাশাপাশি ভিটামিন সি ও জুস জাতীয় খাবার খাওনোর পাশাপাশি গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করে চলেছে।