গাড়ির ধাক্কায় বুয়েটশিক্ষার্থী নিহত: দ্রুত বিচারসহ ৬ দাবি সহপাঠীদের

রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সহপাঠী মুহতাসিম মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে নির্মমভাবে তাদের সহপাঠীকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাস সংলগ্ন পলাশীর মোড়ে এ সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘটনার  সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পড়েন, বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শৌর্য দাস ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ওবায়দা মায়ায।

দাবিগুলো হলো ১. যেকোনো মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ। ২. আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদী-পক্ষকে বহন করতে হবে। ৩. নিহত মাসুদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীপক্ষকে বাধ্য করতে হবে। ৪. তদন্ত কার্যক্রমে বাধাদানের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. আহতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ব্যাপারে বুয়েট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি। ৬. সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আর কারও প্রাণ যেন না যায় এবং সড়কে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যাপারে যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ ঘটনায় আহত আরেক শিক্ষার্থী অমিতের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, পুলিশের সংকেত পেয়ে তারা বাইক থামিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি যে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

আরও বলা হয়, অতীতে আমরা দেখেছি যে অপরাধী যদি প্রভাবশালী হয়, তাহলে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাঁটিয়ে, ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, ভিকটিমের পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে, প্রাথমিকভাবে মামলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব খাটায়, কিংবা আরও নানাভাবে ছাড় পেয়ে যায়। এটা আমরা হতে দিতে পারি না কখনোই। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চাই।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে তল্লাশিচৌকিতে একটি মোটরসাইকেল থামায় পুলিশ। মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন সেখানে দাঁড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি প্রাইভেটকার তাদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম নিহত হন। গুরুতর আহত হন বুয়েটের আরও দুই শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান খান (২২) ও অমিত সাহা (২২)। তারা সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে এক ক্যান বিয়ার ও একটি খালি মদের বোতল পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় নিহত মুহতাসিমের বাবা বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।