এভাবে চললে বাফুফেকে মাঠ দেবে না কুমিল্লা

কুমিল্লার ক্রীড়া সংগঠকরা বাফুফের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা বলছে বাফুফে মাঠ নিয়ে খোঁজখবর নেয় না। একটা মাঠে খেলা চালাতে হলে কীভাবে ভেন্যুকে সহযোগিতা করবে সেটি নাকি করছে না বাফুফে। কুমিল্লার সংগঠকরা বলছেন 'আপনারা ঘরে বসে থাকবেন আর আমরা আপনাদের খেলা চালিয়ে দেব, তা হবে না।' 

জেলা ফুটবল কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ স্বপনের কথা হচ্ছে-বাফুফের সঙ্গে তাদের কথা ছিল, বাফুফে সব রকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু মাঠ পাওয়ার পর কোনো কিছুই করেনি। এ নিয়েই ক্ষোভ। তিনি বলেন 'মাঠের খরচ আছে। একটা খেলা আয়োজন করতে গিয়ে নানা খরচ আছে। প্রশ্ন তোলেন সেটি কে করবে। সব খরচ আমরা কেন করব।'

অক্টোবরে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। দেড় মাস পিছিয়ে গেলেও মাঠ নিয়ে বাফুফের হেলদোল ছিল না। কুমিল্লার মাঠ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাফুফে মাঠ নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই করেনি বলে স্থানীয় সংগঠকদের দাবি। তারা জানিয়েছেন, মাঠ যখনই বাফুফের কাছে দেওয়ার অর্ডার এসেছে তখনই বাফুফের উচিত ছিল মাঠ নিয়ে কাজ শুরু করা। কিন্তু সেটা তারা করেনি বলে জানান আহসান উল্লাহ স্বপন। খেলা শুরু হওয়ার এক দিন আগে ক্রিকেট পিচ তুলে মাঠের সংস্কার কাজ করতে হয়েছে। বাফুফে হতে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে কুমিল্লার মাঠের খরচের জন্য। এরপর আর কোনা খবর রাখেনি বাফুফে জানিয়েছেন স্বপন।

আরেক ক্লাব কর্মকর্তা এবং ডিএফএর সাইফুল আলম সবুজ জানিয়েছেন, চারটি খেলা হয়ে গেল। কিন্তু বাফুফে কোথায়। গতকাল ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে আবাহনী-বসুন্ধরা কিংস মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, 'এখানে খেলা চালাতে হলে অ্যাম্বুলেন্স খরচ আছে, বলবয় লাগে, পুলিশ আনতে হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও বাড়তি কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়, স্বেচ্ছাসেবক দরকার হয়, ভিআইপি গেস্ট এলে তাদেরকে আপ্যায়ন করতে হয়। আমরা সব সময় নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করব। আর বাফুফে সেটি জানবে না কেন? প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বাফুফে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা খেলা নিব না। বাফুফেকে আর মাঠ দেব না।'

তিনি আরও বলেন, 'মোহামেডান এবং আবাহনীর ভেন্যু। তারা কি করেছে? গ্যালারি রং করার কথা ছিল, করেনি। ড্রেসিং রুমের কিছুই করেনি। বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। আমরা এসব বিষয়ে বললেও কেউ আসে না। খেলবেন আপনারা বিল বহন করব আমরা, কেন? নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের ডিসি সাহেব প্রশ্ন করেন। আমরা কোনো জবাব দিতে পারি না। সবাই মিলে কাজ করলে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যায়।' আশিকুর রহমান মাহমুদ, মাহমুদুল আলম তুহিনদেরও একই কথা। আহসান উল্লাহ স্বপন জানান বাফুফে খোঁজ নেয়নি। যারা ভেন্যু নিয়েছে তারাও প্রতিশ্রুতি রাখেনি।'

সবুজ বলেন, 'গত ১৪ ডিসেম্বর প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে ২৩ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। আজকে বসুন্ধরা-আবাহনীর ম্যাচে গেট ওপেন করে দেওয়া হয়েছে।' এসব অভিযোগ নিয়ে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাফুফে হতে একজন আরেক জনের কাছে বল ঠেলে দেন।