দিনাজপুরের শীত বরাবরই রূপকথার মতো। হিমালয় থেকে বাংলাদেশের নিকটবর্তী অঞ্চল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এই শীত যেন আরও বেশি করে ধরা দেয় প্রতিবছর। কুয়াশায় মোড়ানো সকাল, ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। সব মিলিয়ে শীতের এই দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে অন্যরকম প্রাণের সঞ্চার ঘটায়।
এ সময় ক্যাম্পাস সংলগ্ন চায়ের দোকানগুলো হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। ভোরবেলার কুয়াশা ভেদ করে ক্লাসে যাওয়ার পথে কিংবা ক্লাস শেষে বন্ধুরা মিলে এসে ভিড় করে এসব টঙ দোকানে। জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা। ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা আর বন্ধুদের সঙ্গে গল্প যেন পুরো শীতের আমেজকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়ের দোকানিরাও শীতের এই সময়ে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বছরের এ সময়টাতে নতুন ব্যাচের আগমন ঘটে। চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দোকানগুলোর সামনে সারি ধরে বসে থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
চা দোকানী উদয় বলেন, ‘শীত এলেই আমার দোকানে ভিড় বাড়ে। গরম চা খেতে সবাই আসে, আড্ডা দেয়। এটা দেখতে ভালোই লাগে।’
ক্যাম্পাসের পাশেই পিঠার দোকানগুলো শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। খেজুরের গুড়ের ভাপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠার সঙ্গে চা মিলে তৈরি করে এক নান্দনিক পরিবেশ।
পিঠা খেতে আসা তমা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শীত মানেই পিঠা-পুলি আর বন্ধুদের সাথে মিষ্টি আড্ডা। আর চা তো আমাদের সবার নিত্য সঙ্গী।’
বন্ধুরা মিলে পিঠার স্বাদ নিতে নিতে আড্ডায় উঠে আসে দিনের বিভিন্ন গল্প, যা দিনের সেরা মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাফিস বলেন, ‘সকালে ক্লাসের জন্য বের হয়ে কুয়াশার মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে চায়ের দোকানে ঢু না মারলে শীতটা যেন ঠিক জমে না। চায়ের সঙ্গে আড্ডা—এটাই আমাদের শীতের সকাল।’
শুধু আড্ডা নয়, শীতের সকালের এই পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের প্রশান্তি বয়ে আনে। কুয়াশার ভেতর দিয়ে গাছের ডালে বসা পাখির ডাক কিংবা মাঠের ওপর ঝরে পড়া শিশিরবিন্দু দেখে অনেকেই ক্যাম্পাসের এই সময়কে কোন কবিতার পটভূমি বলে মনে করেন।
হাবিপ্রবির শীতকালের সকালগুলোতে চায়ের আড্ডা শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, বরং বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার একটি জায়গা। কুয়াশায় মোড়ানো পরিবেশ, গরম চায়ের ধোঁয়া আর হাসি-আড্ডার এই মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম স্মৃতি।